নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শুধু পড়া পড়া করলে চলবে না। কারণ সারাক্ষণ পড়ালেখা করতে ভালো লাগে না। খেলাধুলাও করতে হবে।’ এ ছাড়া প্রাথমিকে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাও করতে হবে। সেদিকে লক্ষ রেখে আমরা ছেলেমেয়েদের শারীরিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ, বঙ্গমাতা গোল্ড কাপের ব্যবস্থা করেছি। জেলার সঙ্গে জেলার প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ক্রিকেট-কাবাডিসহ অন্যান্য খেলায় আমাদের ছেলেরা ভালো করছে। শুধু তাই নয় আমরা স্থানীয় খেলার প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি স্কুলে যেখানে ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে লেখাপড়া করে সেখানে মেয়েদের জন্য আলাদা বাথরুম করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া জোরদার করার জন্য তাদের বর্ণমালায় পাঠ্যপুস্তক তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। তাদেরকে সরকারিভাবে তাদের শিক্ষা উপকরণ দেয়া হচ্ছে।’
‘মানসম্মত শিক্ষা, জাতির প্রতিজ্ঞা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। সকাল সড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করি। শিক্ষা মৌলিক অধিকার। ২০০৮ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি স্কুল-কলেজকে সরকারিকরণ করেছি। ৭২ সালের পর আর কেউ এটা করেনি।’
উপস্থিত ছাত্র-শিক্ষদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকতা হচ্ছে একটি মহান পেশা। এখনো আমি আমার শিক্ষকদের সম্মান করি। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন সেই সোনার বাংলা সোনার ছেলে তৈরি করার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক। প্রত্যেক ছেলেমেয়ে যাতে মুক্তিযোদ্ধের চেতনা ও নীতিবান ও আর্দশবান মানুষ হতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে শিক্ষকদের। কারণ আমরা চায় আমাদের ছেলে-মেয়েরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।’
ইসলাম শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইসলামে বলেনি আত্মহত্যা করো। যে আত্মহত্যা করবে সে দোজখে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামের নামে কোনো সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদ কার্যক্রম কারও কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের লক্ষ রাখতে হবে যেন ছেলেমেয়েরা যেন এসব থেকে দূরে থাকে। তাদেরকে কেউ যেন বিভ্রান্ত করতে না পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নই। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারণ বাংলাদেশ যেন উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হয়।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ।
আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

