আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে বেশ চাপের মুখে পড়েছেন হিলারি ক্লিনটন। সোমবার আইওয়ায় মনোনয়ন প্রক্রিয়ার রাজ্য পর্যায়ে প্রথম ভোটাভুটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স থেকে ০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফাস্টলেডি, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। ভোটের এ ব্যবধানে হতাশ কর্মী-সমর্থকরাও। শুরুতে ভোটের এ সামান্য ব্যবধানে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, হোয়াইট হাউজের সর্বোচ্চ পদে চুড়ান্ত লড়াইয়ের আগে মনোনয়ন দৌঁড়ে মাঝপথে ছিটকে পড়বেন না তো হিলারি।
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সোমবার এ ভোটাভুটি শুরু হয় আইওয়া রাজ্য দিয়ে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা দলবল নিয়ে প্রচারণা চালাতে ছুটছেন ওই রাজ্যে।
হিলারি ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পেতে প্রচারণায় নামেন ২০০৮ সালেও । ওই বছর একই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সেবার আইওয়া রাজ্যে প্রথম ভোটাভুটির পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এবার শুরু থেকে আলোচনায় থাকলেও আইওয়ার ফলাফল তার সামনে বড় ধরনের ধাক্কা। ভোটের ফলাফলে হিলারি জিতলেও এটাকে এক ধরনের ‘টাই’ বলছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। এ রাজ্যে হিলারির প্রধান প্রতিদ্বদ্ধী ছিলেন নির্দলীয় সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি নিউ হ্যাম্পশায়ারে ভোটভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। জনমত জরিপে এ রাজ্যে ভালো ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স । দ্বিতীয় এ ভোটাভুটিতে হেরে গেলে হিলারি ও তার সমর্থকদের জন্য সামনের পথ কঠিন হয়ে উঠবে।
ক্যালিফোর্নিয়া সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড্যান শানুর বলেছেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে হিলারি ক্লিনটনের ভোটের সমতা ইতিবাচক নয়। এ ফলাফল ২০০৮ সালের অবস্থাই ফিরিয়ে আনছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটাভুটির পর কর্মী-সমর্থকদের এক সমাবেশে হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, প্রার্থী হিসেবে তিনি দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং আগামী ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে সক্ষম।

