নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুরের ৪ দশমিক ২৬৬৬ একর সরকারি জমি ভুয়া জাল দলিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন একই এলাকার সাবেক সাব-রেজিস্টার মোখলেছুর রহমান ঠাকুর। অনুসন্ধানে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ওই সাব-রেজিস্টারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয় এই মামলার অনুমোদন দেয় কমিশন। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট থানায় দুদকের দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করবেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের অনুমোদিত মামলায় ওই সাব-রেজিস্টারসহ বাকি আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক অফিস সহকারী (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর) মো. নুরুজ্জামান এবং শাহআলী নগর হাউজিং এস্টেটের মালিক মো. শমসের আলী।
এ ব্যাপারে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. নাসিম আনোয়ার বলেন, ‘আমি জেনেছি এ সংক্রান্ত একটি মামলা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মামলাটি আজকেই দায়ের করার কথা ছিল। তবে এখনো পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়নি, কালকে হতে পারে। তাই মামলা দায়ের না হওয়া পর্যন্ত তারা কতো পরিমাণ রাজস্ব আত্মসাৎ করেছে তা বলা যাচ্ছে না।’
দুদক সূত্র জানা যায়, সাব-রেজিস্টার মোখলেছুর রহমান ঠাকুর মিরপুর অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বাকি আসামিদের সহযোগিতায় এই জালিয়াতিপূর্ণ কাজ করেছেন। তারা মিরপুর থানা এলাকার বিশিল মৌজার ৪টি দাগের মোট ৪ দশমিক ২৬৬৬ একর সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জাল দলিল তৈরি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে আত্মাসৎ করে।
দুদকের অনুসন্ধানে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন চেয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। সেই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদনটি সঠিক বলে মনে হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৬/৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারায় মামলাটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

