নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রি-পেইড মিটারিং পদ্ধতি, এনএলডিসি আধুনিকায়ন (স্ক্যাডা) ও ১৩২ কেভি প্রান্তে শিল্প সংযোগ প্রদানের সুযোগ বাপবিবোর্ডের উপর ন্যস্ত করা, পল্লী অঞ্চলে শিল্পায়নের বিকাশে পবিস কর্তৃক বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান ও সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান গতানুগতিক উপকেন্দ্রের পরিবর্তে আধুনিক ও নিয়মিত উপকেন্দ্র স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ সর্বোপরি টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে ব্যাপক গতিশীলতা আনতে হবে। লাইফ লাইনের (১ থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহাকারীগণ) বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগীদের সচেতন করে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ও অপচয় রোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রতিটি রুমে রুমে মিটার নেওয়ার প্রবনতা দ্রুত বন্ধ করা উচিত। সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে হবে। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এই স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন পবিস সমূহের জেনারেল ম্যানেজার সম্মেলনে (পিটিএ/এপিএ চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠান) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের চেয়ারম্যান জনাব এ, আর খান অদ্য ৩০/০১/২০১৬ খ্রিঃ তারিখ বাপবিবোর্ড সদর দপ্তরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মন্তব্য করেন। জেনারেল ম্যানেজার সম্মেলনে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের সদস্য জনাব রহমান মোর্শেদ, পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. মাসুম আল-বেরুনী, ওজেস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. সফিক উদ্দিন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য জনাব আবুল বাশার খান ও বাপবিবোর্ডের সদস্য (অর্থ) জনাব মো. আতাউল হক মোল্লা। অনুষ্ঠানে দেশের ৭৭টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ও সমিতি বোর্ডের সভাপতিগণসহ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাপবিবো এবং পবিসসমূহের পক্ষ থেকে বিদ্যুতের মূল্য পুনঃনির্ধারণের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুতের দাম বা মূল্য পুনঃনির্ধারণের বিষয়টি পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে। ট্যারিফের কারণে কোন কাজ যেন বন্ধ না থাকে। আলোচনায় বক্তারা গ্রীড ওভারলোড পরিহার করার প্রয়াস চলমান রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বাপবিবো চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৬৩টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হবে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকলের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান । প্রধান অতিথি বিইআরসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন বিআরইবি যেভাবে কাজ করছে তাতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের যে প্রসার ঘটেছে তা দেশে বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে। তিনি আরও বলেন, পবিস সমূহের সর্বস্তরের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ঠিকাদারদের দালালী এবং চাঁদাবাজী বন্ধ করতে হবে। চাঁদাবাজী বন্ধ না হলে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে যাবে। সরকারের লক্ষ্য অর্জনে আমরা পিছিয়ে যাব। বক্তারা পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের অর্জিত সফলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

