নিজস্ব প্রতিবেদক : আর মাত্র ক’দিন পরেই বাঙালির বই উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে এখন নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। ব্যস্ত শ্রমিকরা। চারপাশে পেরেক গাঁথার শব্দ। রংমিস্ত্রিদের শরীরজুড়ে রং। চলছে ব্যতিক্রমী স্টল নির্মাণও। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢঙে সেই স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছে বাঁশ-বেতের নিখুঁত কারুকাজ।
মঙ্গলবার মেলায় ঢুকতেই কানে আসে হাতুড়ি-পেরেকের ঠুস-ঠাস শব্দ। সবাই ব্যস্ত স্টল নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজে। কেউ রং করছেন। কেউ সাইনবোর্ড ঝোলাচ্ছেন। নিরাপত্তার জন্য তৈরি হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার। আলোর ব্যবস্থা করতে বসানো হচ্ছে ল্যাম্পপোস্ট। চলছে চলাচলের পথে ইট বসানোসহ নানা কর্মযজ্ঞ। শেষ হয়েছে চারপাশে টিনের বেড়া দেয়ার কাজ।
রংমিস্ত্রি হেদায়েত মোল্লা। তিনি জানালেন, গত দু’দিন ধরে বার্নিশের কাজ করছেন। তিনটি স্টলে এবার রংয়ের কাজ করছেন তিনি। সবকাজ শেষ করতে তার আরো তিন-চার দিন লাগবে।
২৬ জানুয়ারি কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দিয়েছিল বাংলা একাডেমি। হেদায়েত মোল্লা বলেন, ‘প্রতিবারই এরকম টাইম দেয়া থাকে। এরকম টাইম দেয়ার দরকার তাই দেয়। সবাই যে যার মতোই কাজ করে।’
এ বিষয়ে গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখনো কাজ শেষ হয়নি। আমরা হাতে কয়েকদিন সময় রেখেই তাদের সময় বেঁধে দিয়েছিলাম।’
‘সবকিছু তো আর সময় নির্ধারণ করে শেষ করা যায় না। আশা করি দ্রুতই সব কাজ শেষ হয়ে যাবে’, বলেন ড. জালাল। পাতাবাহার প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী মুস্তফা পান্নাকে তার স্টলের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রং করা হচ্ছে। কালই কাজ শেষ হয়ে যাবে। সাইনবোর্ড এনে রেখিছি। রং করা শেষ হলে টাঙিয়ে দেব।’
১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করবেন। সে অনুযায়ী নিরাপত্তায় ৩০ জানুয়ারির পর থেকে মেলা উদ্বোধন পর্যন্ত পুরো এলাকা থাকবে আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে। সে কারণে এ দিনের পর মেলায় কোনোরকম কাজ করা যাবে না বলে জানালেন মুস্তফা পান্না।
এখনো মেলা প্রাঙ্গণে নতুন নতুন স্টলের জন্য খোঁড়াখুড়ি চলছে। মাটি খুঁড়ছিলেন আলী মিয়া। তিনি জানালেন, মঙ্গলবারই কাজ শুরু করেছেন তিনি। উদ্বোধনের আগে যতটুকু শেষ করা যায় করবেন, বাকিটা উদ্বোধনের পরও করা যাবে।
আনু মিয়া নাতি আর মেয়েকে নিয়ে আসছেন কাপড় সেলাইয়ের কাজ করার জন্য। মঙ্গলবার ও তার আগের দিন মেলা প্রাঙ্গণে এসেছিলেন কাজের জন্য। কিন্তু পাননি। বললেন, ‘আজ একটু কাজ পাচ্ছি। কাল-পরশু কাজের চাহিদা আরো বাড়বে।’ বিগত ১০ বছর ধরে মেলা সাজসজ্জার এ কাজ করেন তিনি। বলেন, এখন আর আগের মতো কাজ নেই। এখন বেশিরভাগ কাজ বোর্ড দিয়ে করা হয়।’
আর মাত্র ৪ দিন। এর পরই শুরু হবে পৃথিবীর দীর্ঘ সময়ব্যাপী বইমেলা। বইপ্রেমিকরা অপেক্ষা করছেন। সেই অপেক্ষা দ্রুত ফুরাবে, জানান দিচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণ।

