ঢাকাMonday , 25 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলের ভাড়া বাড়ালে সমস্যা আরো প্রকট হবে

Link Copied!

railনিজস্ব প্রতিবেদক : রেলের ভাড়া বাড়ানো হলে সমস্যা আরো প্রকট হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, যাত্রীরা ট্রেনে যেতে চাইবেন না। ফলে রেলের লোকসানের পাল্লা আরো ভারী হবে।
তারা আরো বলেছেন, ‘রেল ভাড়া না বাড়িয়ে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কোচ সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হলে যাত্রী বাড়বে। বন্ধ রেল স্টেশন চালু করা হলে রেলের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। অন্যের দখলে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে উন্নয়ন মূলক পরিকল্পনা মাফিক প্রকল্প গ্রহণ করলে রেলের আয় বৃদ্ধি পাবে।’
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানস্থ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) সেমিনার হলে পবা ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট যৌথ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এই দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভাড়াবৃদ্ধি না করেও যাত্রী সেবা লাভজনক করা সম্ভব।
তারা অভিযোগ করে বলেছেন, রেল পরিচালনার ব্যয় হ্রাস করতে বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শে রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে। অথচ অতীতে বর্তমান সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যাক স্টেশন ও লোকবল নিয়ে অধিক সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা করে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হতে ঘন ঘন ভাড়া বৃদ্ধি করতে হয়নি।
স্বাধীনতার পরবর্তী সময় ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সালে যথাক্রমে ৪৭১ ও ৫৭৫টি স্টেশন এবং লোকবল ছিল ৪৯ হাজার ৫৮৬ ও ৫৮ হাজার ০৯০ জন। আর রেল পরিচালনার ব্যয় ছিল ৯৪ দশমিক ৬ ও ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৪  সালে এসে স্টেশন ৪৫৬ এবং লোকবল ২৫ হাজার ৬৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পরিচালনা ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০০ দশমিক ২ শতাংশ। বর্তমানে স্টেশন এবং লোকবল হ্রাস পাওয়ার পরও রেলের পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে পবার চেয়ারম্যান মো. আবু নাসের খান বলেন, ‘বর্তমানে এই ভাড়ায় বেসরকারিতে পরিচালিত ট্রেনসমূহ পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে মুনাফা অর্জন করতে পারলেও বাংলাদেশ রেলওয়ে পারছে না।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘কর্ণফুলি এক্সপ্রেস ট্রেনের রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায় আয় হতো ১ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা আর বেসরকারিতে আয় হচ্ছে ১ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৮০৮ টাকা।’
অনরুপভাবে মহুয়া এক্সপ্রেস ও দেয়ানগঞ্জ কম্পিউটার ট্রেনের রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায় আয় ছিল যথাক্রমে ৭২ লাখ ও ২ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আয় হচ্ছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ও ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ১৭৬ টাকা।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন প্রতি আয় শুধু যাত্রীর কাছ থেকে পাওয়া ভাড়ার ওপর নির্ভর করে না। ভাড়া ছাড়াও আরো যেসব বিষয়ে ওপর ট্রেন প্রতি আয় নির্ভর করে তারমধ্যে রয়েছে ট্রেন প্রতি কোচের সংখ্যা, বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী কোচের কম্বিনেশনে, কোচের যাত্রী ধারণক্ষমতা, কোচের সিটের অকুপেন্সি হার ও ট্রেনের টার্ন অ্যারাউন্ড।’
তিনি বলেন, ‘ট্রেন প্রতি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ট্রেনের কোচের সংখ্যা বা ট্রেনের দৈর্ঘ্য। যেসব ট্রেনে যাত্রী চাহিদা বেশি সেসব রুটের ট্রেনে কোচ সংখ্যা বাড়ালে আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব। কোচের সংখ্যা বাড়লে ট্রেন থেকে আয় বাড়ে, কিন্তু খরচ সমানুপাতে বাড়াতে হয় না।’ কারণ হিসেবে রেলওয়ের অনেক খরচ কোচের সংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানান তিনি। রেল লাইন, ইঞ্জিন, গার্ড, চালক, প্লাটফর্মসহ অনেক খরচই কোচের সংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তিনি মনে করেন।
এ সময় পবা’র সদস্য আবুল হাসনাত, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর কো-অর্ডিনেটর আতিক মোরশেদ ও সহ-সম্পাদক মো. সেলিম উপস্থিত ছিলেন।