নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, এসডিজির যে ১৬৯টি টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে তামাকের ভয়াবহতা বিবেচনায় ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) বাস্তবায়ন অন্যতম। সুতরাং এফসিটিসি বাস্তবায়ন এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। উন্নয়নের মূল স্রোতধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসডিজি অর্জন করতে চাইলে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশের সরকারগুলোকে এফসিটিসি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলের এইচআর ভবনের সম্মেলন কক্ষে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সাবের হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে তিনি আসন্ন সাউথ এশিয়ান স্পিকারস সামিটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এসডিজির আলোকে তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় নীতি-কৌশল গ্রহণ এই সামিটের অন্যতম বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এসডিজি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আইপিইউ এবং এর মেম্বার পার্লামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসডিজি-২০১৬ তারই ফসল, যেখানে টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন, সকলের অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণ এবং অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইপিইউ সভাপতি জানান, আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক সাউথ এশিয়ান স্পিকারস সামিট ২০১৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এই সামিটে আফগানিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের স্পিকারসহ সংসদীয় প্রতিনিধিগণ অংশ নেবেন। আইপিইউ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্ (সিটিএফকে) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে।
দুই দিনব্যাপী এই সামিটে কানাডিয়ান ক্যান্সার সোসাইটি, আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি, আইপিইউ, ইউএনডিপি, এসকেপ, সিটিএফকে, ডব্লিউএইচও, থাই হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশনসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধি আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সামিটে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মতবিনিময় সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, আপনারা জানেন, এতদিন স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো ছিল মূলত এইচআইভি/এইডস, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাস বিষয়ে। এই প্রথমবারের মতো অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব প্রদান করে এসডিজির একটি টার্গেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সারা বিশ্বে ৬৮ শতাংশ মানুষের মৃত্যুর কারণ এই অসংক্রামক রোগ। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশ্বব্যাপী তামাক এখন এক মহামারির নাম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশসহ মোট ৮টি দেশে এক তৃতীয়াংশ (৩৪.৮%) তামাক ব্যবহারকারী বসবাস করে, যার সংখ্যা প্রায় ৩৮৪ মিলিয়ন। এসব দেশে তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ।
পরিসংখ্যান মতে, শুধুমাত্র ভারত ও বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে ১১ লাখ মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যুর পরিমাণ বছরে ৮০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে এবং এই মৃত্যু টোল-এর ৮০ ভাগই বহন করতে হবে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে।
এফসিটিসির কার্যকর বাস্তবায়ন মোটা দাগে দুটো কারণে অত্যন্ত জরুরি। এক. এফসিটিসি বাস্তবায়ন বাদ দিয়ে এসডিজির তৃতীয় লক্ষ্যমাত্রা ‘স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ এবং সব বয়সের সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ’ সম্ভব নয়। দুই. এসডিজির অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও তামাক বড় ধরনের বাধা, যা এফসিটিসি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই অপসারণ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আইপিইউ জাতীয় পার্লামেন্টগুলোর একটি বৈশ্বিক সংগঠন। সংসদীয় সংলাপ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এই ইউনিয়নের সভাপতি।

