ঢাকাThursday , 21 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘বেপরোয়া’ পুলিশ, দমাতে হবে সরকারকেই

Link Copied!

Police Logoনিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ। সময়ের ঘেরা টপকে সেই ‘বন্ধু’ পুলিশই বর্তমানে মানুষের চরম ভয় আর আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েকদিনের ঘটনায় ‘পুলিশ’ একরকম আলোচনার শীর্ষে। গতকালও রাজধানীতে বেশ কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এতে যেমন সাধারণ মানুষের আস্থা হারাচ্ছে, তেমনি স্বয়ং হাইকোর্ট পর্যন্ত তার আদেশনামায় পুলিশের এক কর্মকর্তাকে ‘ক্রিমিনাল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে পূর্ব থেকে চলে আসা সমসাময়িক সকল ঘটনা থেকে সমাজের মানুষকে রক্ষা ও ‘বেপরোয়া’ পুলিশকে শান্ত করতে সরকার ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থদের হস্তক্ষেপ চাইছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে নিজেদের দলের কারো অপরাধের দায়ভার নিতে চান না পুলিশ প্রশাসনের কর্তকর্তারা। যদিও ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩’ অনুসারে তাদের বক্তব্য আইনসঙ্গত। তবুও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্পষ্ট কিছু অবহেলা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এমন অভিযোগ অনেকের।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’র (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, ‘পুলিশের মধ্যে অনেকে আছে যারা আইন অমান্যকারী। তাদের মানসিকতা অন্য পুলিশদের থেকে ভিন্ন। প্রথম প্রথম তারা তেমন শাস্তির সম্মুখীন হয়না বলেই বড় ধরনের অপরাধ করার সাহস তাদের বেড়ে যায়। তাদের অনেকেই ভাবেন তারা যে যাই করুক কেউ তাদের ধরতে পারবে না। অনেকেই মন্ত্রী-এমপির দোহাই দিয়ে টিকে যাবে ভেবে অপরাধ করতে থাকেন। ফলে সমাজে অনেকেই আছেন যারা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পান না। এমন ঘটনাও অনেক।’
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাকে নির্যাতনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেট্রাপলিটন পুলিশের পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিৎ বড়ুয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানিসহ মারধর ও ভাঙচুরের মামলা হয়েছে। তবে শ্লীলতাহানির আরেক অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শঙ্কর, উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম, এসআই জামান, কনস্টেবল দেবাশীষ ও মুগদা থানার এসআই আবদুল কাদেরকে নিয়েও চলছে মামলার প্রস্ততি। আর এসব মিলিয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি এখন অনেকটাই ঘোলাটে।
রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে টেলিভিশন-পত্রিকায় পুলিশ নির্যাতন আর হেনস্থার যে খবর দেখছি আর শুনছি তাতে করে এখন পথ চলতেও ভয় হয়। টিউশনি করিয়ে রাতে বাসায় ফেরার সময় রাস্তায় পুলিশ দেখলে স্বস্তি পেতাম। কিন্তু এখনকার সব অঘটন দেখে পুলিশ দেখলে আর সে পথে একা একা না যাওয়ারই চেষ্টা করি বেশি’।
অথচ টাকা না পেয়ে নির্যাতন, মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া, সাধারণ মানুষকে হয়রানিসহ পুলিশের বিভিন্ন হেনস্থার ঘটনা সদর দফতরের যে অজানা তাও কিন্তু নয়। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব মতে, ২০১৫ সালে সিকিউরিটি সেলে প্রায় ৫ হাজার গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে। যার বাইরে নৈতিক স্খলন ও আচরণগত সমস্যার অভিযোগ জমা পড়েছে প্রায় ৩ হাজার। এর মধ্যে শাস্তি হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৪ জনের বিরুদ্ধে। যার মধ্যে ফৌজদারি অপরাধে ৭৪ জনকে গুরুদণ্ড এবং অন্যান্য অপরাধে ৯৬০ জনকে লঘুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর এসব বিচারে তাদের মধ্যে অভিযোগ ছিলো মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ কিংবা হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক সেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘পুলিশ নির্যাতনের ঘটনা শুধু বর্তমান সময়ে নয়, এটি বহু বছর ধরে ঘটে আসছে। একজন মানুষ পুলিশে গেলে তার মধ্যে অপরাধ প্রবণতার হার বেড়ে যায়। অনেকেই আবার পুলিশকে রাজনৈতিক মিথ্যে মানসিকতা দিয়ে পুষতে থাকেন। ফলে পুলিশদের দক্ষতা প্রকাশ পায় না। এতে পুলিশ প্রফেশনের জায়গা থেকে সরে আসে এবং জনগণকে সাহায্য না করা থেকে বিরত থাকে। যার ফলে আমরাও তাদের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হই’।
তবে পুলিশ নির্যাতন ও অপরাধ রোধের বিষয়ে আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, পুলিশের সকল অঘটন বন্ধ করতে তারা(পুলিশ) আইনের ঊর্ধ্বে নয় ম্যাসেজটা তাদের দিতে হবে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের কাছ থেকে কড়াকড়িভাবে পুলিশদের কাছে ম্যাসেজটি পৌঁছাতে হবে। এমনটি করা এখন সরকারের কাছে ‘উচিৎ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাধানের পথ খুঁজতে গিয়ে অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষক সেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘সরকার কর্তৃক পুলিশ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। নইলে নতুন কিছু আইন করে পুলিশকে জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। অথবা পুলিশ অপরাধে জড়িয়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধের বিষয়ে পুলিশের বিভাগীয় ব্যবস্থা দায়সাড়া হলে চলবেনা। পুলিশকে ফৌজদারী আইনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এখানে যদি তাদের শাস্তি দেয়া যায় তবে পরবর্তিতে এই সমস্যা এতটা দীর্ঘ হবে না। পুলিশেরাও শাস্তির ভয়ে নিজেদের জায়গায় থেকে কোনো রকম দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়ার ভাবনা থেকে পিছিয়ে আসবে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াকেও স্বচ্ছ করতে হবে। আর ভালো কাজ করলে সেজন্য তাদের পুরস্কৃত করাটাও জরুরি। সব মিলিয়ে এসব বিষয়ে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বেশি।