কক্সবাজার প্রতিনিধি : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে সরকার। কক্সবাজারের উন্নয়ন হলে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে। তারই আলোকে সরকার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিচ্ছে।’
সোমবার সকাল ১১টায় কক্সবাজার শহরের তারকামানের হোটেল সায়মান বিচ রিসোর্টে কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের নেয়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে অনেক সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। আর তা সম্ভব যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মধ্য দিয়ে। সেই জন্য সরকার সড়ক যোগাযোগের গ্রেটার কানেকটিভিটি খুলে দিচ্ছে।’
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহাসড়কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তি হচ্ছে। এশিয়ান হাইওয়েতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার অংশের সংযুক্ত পয়েন্ট উখিয়ার বালুখালী-নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে ফেব্রুয়ারি মাসে। ইতোমধ্যে ৮৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কের সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালের মার্চ মাস নাগাদ সময়ের মধ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। এ সড়কটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার থেকে উখিয়ার শীলখালী পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অপর অংশ শীলখালী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সড়কের ৪০ ভাগ মাটির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। চাহিদামতো অর্থ বরাদ্দ দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভ সড়কের কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট কলাতলী থেকে নিরিবিলি হ্যাচারি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পর্যন্ত ভেঙে যাওয়া অংশ পুনঃনির্মাণে ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সড়কের এ অংশের ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন।’
ভারতসহ বিভিন্ন দেশে সীমান্ত সড়ক থাকার কথা উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৭০৩ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ৪ লাইনে উন্নীত করা হবে। জাইকার অর্থায়নে ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে এ মহাসড়কে ৪টি সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কক্সবাজারের মেগা প্রকল্প ‘মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র’। এ প্রকল্পের সঙ্গে ৪৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও ৬৪০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ৬০২ কোটি টাকা। এ বছর সেপ্টেম্বর মাসেই এ নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’
এছাড়াও ৫ কিলোমিটারের রামু ক্যান্টেনমেন্ট সড়ক, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চট্টগ্রাম সড়কের ওভারলে কাজ, মহেশখালীর জনতা বাজার-গোরকঘাটা সড়ক, থাইংখালী-হ্নীলা বাজার সড়কের ওভারলে কাজ, খুরুশকূল-চৌফলদন্ডী-ঈদগাঁও সড়কের নির্মাণ ও সংস্কারকাজের নানা কর্মকাণ্ডও শুরু হয়েছে বলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী তুলে ধরেন।

