নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্বিতীয় দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পেল ‘মগবাজার-মৌচাক’ ফ্লাইওভার প্রকল্পের। এ প্রকল্পে প্রায় ৪৪৬ দশমিক ১৯ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যা মূল ব্যয়ে ৫৮ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রকল্পটির দেড় বছর মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ফ্লাইওভারটির আগের চেয়ে বাড়ছে দৈর্ঘ্যও।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির ফলে ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে এখন মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ মেয়াদে শেষ থাকলেও সময় বৃদ্ধি করে জুন ২০১৭ সাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির একনেক বৈঠকে ‘মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার’ প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদন জন্য পেশ করা হবে। প্রকল্পটি একনেক কমিটির অনুমোদনের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘মগবাজার–মৌচাক ফ্লাইওভার’ প্রকল্পটি এখন তেজগাঁও-পান্থপথ লিংক রোড এফডিসি গেইটের পরিবর্তে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। এতে করে নতুন ভাবে ৪৫০ মিটার এলাকা সংযোজন করা হচ্ছে।
ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে প্রস্তাবে নতুন করে ৪৫০ মিটার বাড়ার কথা বলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ ফ্লাইওভার দীর্ঘ হবে ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি ভূমিকম্পের প্রকোপ মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ও প্রতিবেশি দেশসমূহে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প হওয়ার কারণে বুয়েটের পরামর্শ মোতাবেক ফ্লাইওভারে পট বিয়ারিং ও এসটিইউ (শক ট্রান্সমিশন ইউনিট) সংযোজন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, টেলিফোন লাইন ও অপটিক্যাল ফাইবার অক্ষুণ্ন রাখতে গিয়ে পাইলিং এর দীর্ঘ ১ হাজার ৯১৫ মিটার বেড়ে গেছে।
প্রতিটি পাইল ও ফাউন্ডেশনের নকশা পৃথক পৃথকভাবে করাই প্রকল্পের পাইল সংখ্যাও বাড়ছে। এছাড়া পাইলের দৈর্ঘ, প্রস্থ, পাইল ক্যাপ এবং সাইজ বাড়ায় ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভূ-গর্ভস্থ ইউটিলিটি পরিসেবা অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিটি ফাউন্ডেশনের নকশা করা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে।
এছাড়া তেজগাঁও-পান্থপথ লিংক রোড এফডিসি গেইটের পরিবর্তে ফ্লাইওভারটি সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত বাড়াতে হচ্ছে। এতে ৮৫ শতাংশ ব্যয় এখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রকল্পের কার্যক্রমে বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, ৩ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৭০ বর্গমিটার অবকাঠামো নির্মাণসহ দুইটি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা হবে। এছাড়া ৪০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ, তিনটি ল্যাপটপ ও একটি কম্পিউটার কেনা হবে।
ঢাকা শহরের যানজট সমস্যা দূর করার জন্য ৩৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মগবাজার–মৌচাক ফ্লাইওভার’ প্রকল্প ২০১১ সালে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রথমে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩। এর পরে প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ব্যয় বৃদ্ধি ৭৭২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এখন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ালো ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে সময় বেড়ে দাঁড়ালো জুন ২০১৭ সাল নাগাদ।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনোমিক ডেভলপমেন্ট(কেএফএইডি) ৭৭৬ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। বাকী সরকারি অর্থায়নে ব্যয় করা হবে।
দীর্ঘদিন থেকে প্রকল্পটির কাজ চলায় ওই এলাকার চলাচলকারী জনসাধারণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অসহনীয় যানজট লেগেই থাকে এ এলাকায়।

