আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বন্দি বিনিময় করার কয়েক ঘণ্টা পরেই এলা সেই বহুল প্রত্যাশিত ঘোষণাটি। ইরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর ফলে ১শ বিলিয়ন সম্পদ অবমুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে দেশটি।
গত বছরের ১৪ জুলাই ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তির আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।
শনিবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদর দপ্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত ঘোষণা দেন।
মোগেরিনি বলেন, ‘ইরান তার সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। তাই আজ (শনিবার) থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট সব ধরনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো।‘ এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা উন্নয়নে সহযোগিতা করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে আইএইএ’এর মহাপরিচালক ইউকিয়া এমানো বলেছেন, পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে আইএইএ’এর সম্পর্ক এখন নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে। এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় তিনি আরো বলেছেন, ‘আজকে আমি এখানে এই মর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করছি যে, জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশান বাস্তবায়নের লক্ষে ইরান প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই রিপোর্ট আইএইএ-এর বোর্ড অফ গভর্নর্স এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও দাখিল করা হয়েছে।’
তেহরানের উপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও উদ্যোগ থাকলে কঠিনতর সমস্যাও যে সমাধান করা যায়, এই ঘটনা সেই শক্তিশালী ও আগ্রহোদ্দীপক বার্তাই দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেছেন, ‘ইরান সকল শর্ত পূরণ করে অঙ্গীকার রক্ষা করার কারণেই তেহরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া বহুপাক্ষিক ও জাতীয় অর্থনৈতিক এবং আর্থিক বিষয়ক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেয়া হয়েছে।’
অর্থনৈতিক এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ইরান এখন তার তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া দেশের বাইরে ইরানের যে ১শ বিলিয়ন ডলার আটকে দেয়া হয়েছিল সেগুলোও এখন থেকে হাতে পেতে শুরু করবে তেহরান।

