আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসলামের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের উত্থান, বিভিন্ন স্থানে তাদের হামলা, বিশেষ করে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের প্যারিসে হামলার পর থেকে ইউরোপজুড়ে বেড়ে গেছে ইসলামভীতি। সেই সাথে পশ্চিমা দেশগুলোতে বেড়েছে মুসলিম বিদ্বেষও।
এমন পরিস্থিতিতে এক অসাধারণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যুক্তরাজ্যের শহর নটিংহামের স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন ‘নটিংহামশায়ার জিপি’। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের পক্ষে অংশ নেয়া প্রায় ৪ লাখ মুসলিম সেনার স্মরণে দেশটিতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে যাচ্ছে তারা।
ওই বিশ্বযুদ্ধের সময় অবিভক্ত ভারত থেকেই শুধু ৪ লাখের অধিক মুসলিম সেনা যুক্তরাজ্যের পক্ষে লড়াই করেছিল। কিন্তু তাদের এই অসামান্য অবদান সব সময়ই থেকে গেছে ‘অস্বীকৃত’। আর ওইসব সেনারাও থেকেছে ‘বিস্মৃত’।
এই প্রকল্পের প্রধান পাকিস্তানি বংশোদ্ভেূত ব্রিটিশ নাগরিক ড. ইরফান মালিক দেশটির গণমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, ‘আপনি তাদের ইতিহাস কোনো পাঠ্যবইয়ে খুঁজে পাবেন না। তাদের নিয়ে তৈরি হয়নি কোনো সিনেমা।’
প্রথমে ড. মালিক জানতে পারেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পাঞ্জাবের বাসিন্দা তার প্রপিতামহরা যুক্তরাজ্যের পক্ষে অংশ নিয়েছিল। এরপর থেকে তিনি এ বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। গবেষণার সময় তিনি আরো জানতে পারেন, শুধু তার গ্রাম থেকেই ৪৬০ জন ওই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।
গবেষণার জন্য যুক্তরাজ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ারস মুসলিম মোমোরিয়াল ট্রাস্ট’। এর মাধ্যমে স্মৃতিসৌধ নির্মাণে তিনি সংগ্রহ করেছেন ২৫ হাজার পাউন্ড।
তিনি জানান, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পরিকল্পনার পর্যায়ে আছে। তিনি বলেন, ‘এটা ইসলামিক নকশায় নির্মাণ করা হবে। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মুসলিমরা যুক্তরাজ্যের প্রতি অনুগত ছিল। এসব ক্ষেত্রে আমাদের অবদান আছে। আমরাও এসব যুদ্ধে অংশ।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সৌধটি তরুণ মুসলিম প্রজন্মের কাছে তাদের পূর্ব পুরুষদের অবদান তুলে ধরবে। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার হবে।
ব্রিটিশ সামরিক ইতিহাসবিদ এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা জাহান মাহমুদ বলেন, ‘মুসলিম সম্প্রদায় তাদের এই ইতিহাস জানে না। এটা আমাদের সরকারের ব্যর্থতা।’ তিনি মনে করেন, এটি নির্মিত হলে যুক্তরাজ্যের মুসলিমরা নিজেদের ব্রিটিশ সমাজের অংশ এবং পূর্ণ ব্রিটিশ বলে মনে করবে।

