নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : সাক্ষ্য গোপন করতেই দুই শিশুকে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সকাল পৌনে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘ চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শিশুরা কখনো টার্গেট হতে পারেনা। চিনে ফেলবে বা সাক্ষ্য দিবে এজন্যই ওই দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ওই ফ্ল্যাট থেকে খাবার, হালুয়া রুটিসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হত্যার পিছনে যেসকল কারণ ছিল সবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মামলার ক্ষতি হবে এমন কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।’
এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি র্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। সবগুলো কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারবো।’
২ জনকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের আটক নয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়েছে।’ খুনিরা পেশাদার কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুনিরা পেশাদার নাকি অপেশাদার সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। পারিবারিক বিরোধ সম্ভাব্য একটি কারণ হতে পারে।’
এদিকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিহতদের লাশ রাখা হয়েছে। হাসপাতালের আরএমও ডা. আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসলে ময়নাতদন্তের কাজ শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইল খানকা মোড় এলাকার একটি ফ্লাট বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন- তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ছোট ভাই মোরশেদুল (২২) ও তাসলিমার জা লামিয়া (২৫)। এ ঘটনায় ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

