ঢাকাSunday , 17 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লাখো মানুষের কান্নায় ভারী টঙ্গীর বাতাস

Link Copied!

ejtemaনিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত শুরু হয়েছে। ইজতেমা ময়দানের বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষভাবে স্থাপিত মোনাজাত মঞ্চ থেকে মোনাজাত পরিচালনা করছেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি ও দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ।
রোববার সকাল ১১টা ৪ মিনিটে শুরু হয় ৫০তম ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের এ মোনাজাত। আর এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০১৬ সালের ৫০তম বিশ্ব ইজতেমা। মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জোটবদ্ধ হয়ে ইসলামি দাওয়াতি কাজে বের হবেন।
তিল ধারণের জায়গা নেই বিশ্ব ইজতেমা প্রাঙ্গণে। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। তারপরও আসছে স্রোতের মতো। মোনাজাতে বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার মানুষের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে। আশা করা হচ্ছে, বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ এ মোনাজাতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।  মুসল্লিদের কান্নায় ভারী হয়ে আসছে টঙ্গীর বাতাস।
আমাদের গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, ভোর থেকেই শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি মহাসড়কে পায়ে হেঁটে ও ট্রেনে করে টঙ্গির ইজতেমা ময়দানে এসে সমবেত হচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক নারী মুসল্লিও মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমার আশপাশের সড়কে সকাল থেকেই অবস্থান নিয়েছেন।
মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত সুবিধার জন্য টঙ্গী জংশন থেকে ১২টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০১টি ট্রেন টঙ্গী জংশনে যাত্রাবিরতি করবে। মোনাজাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইজতেমা পার্শ্ববর্তী সড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রথমবার ৩২টি জেলা নিয়ে গত ৮ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এতে ঢাকার একাংশসহ ১৭টি জেলা অংশ নিয়েছিল। চারদিন বিরতির পর ১৬ জেলার মুসল্লিদের নিয়ে ১৫ জানুয়ারি শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব। এর আগে মুসল্লির সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ইসলামী দেশসমূহের কূটনীতিকবৃন্দ মোনাজাতে অংশ নেবেন।
আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে শনিবার সারাদিন ও রাতে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লি বাসে, ট্রাকে, রেল ও নদীপথে ইজতেমা প্রাঙ্গণে এসেছেন। অনেককে পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে পৌঁছতে দেখা গেছে।
এদিকে মোনাজাতে মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন চলাচলের লক্ষ্যে আজ ভোর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে আব্দুল্লাহপুর, টঙ্গী থেকে মীরেরবাজার এবং কামারপাড়া থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ডিএমপির নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া সড়কের ওপর কোনো যানবাহন পার্ক করা যাবে না।
আখেরি মোনাজাতের আগের রাত থেকে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত আশুলিয়া  থেকে  আসা যানবাহন ধওর ব্রিজ ক্রসিং দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধ দিয়ে চলাচল করছে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী আন্তজেলা বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করবে মহাখালী লেভেল ক্রসিংয়ে বাঁয়ে মোড় নিয়ে বিজয় সরণি-গাবতলী দিয়ে।
কাকলী, মিরপুর থেকে আসা যানবাহন বিমানবন্দরের দিকে না গিয়ে কুড়িল বিশ্বরোডে ইউটার্ন করে বা ডানে মোড় নিয়ে প্রগতি সরণি দিয়ে চলাচল করবে। প্রগতি সরণি থেকে আব্দুল্লাপুরগামী যানবাহন চলাচল করবে বিশ্বরোড ক্রসিংয়ে ইউটার্ন করে বা ফ্লাইওভার দিয়ে কাকলী-মহাখালী রোড ও মিরপুর ফ্লাইওভারে। বিমানবন্দরের যাত্রীদের জন্য নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকার গেট থেকে মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৫ স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থার পাশাপাশি অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।