চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ভোজ্য তেলের দাম লিটার প্রতি পাঁচ টাকা কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি দেশের বৃহত্তম ভোজ্য তেলের পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জে। শনিবার থেকে ভোক্তা পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বিক্রেতারা বলছেন, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে অন্তত আরো সপ্তাহখানেক সময় দিতে হবে তাদের। মূলত এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারী আকারে তেলসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য সরবরাহ হয়ে থাকে।
এরআগে গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশ ভোজ্য তেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদনকারী সমিতির নেতাদের বৈঠকে শনিবার থেকে ভোক্তা পর্যায়ে লিটার প্রতি পাঁচ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খাতুনগঞ্জে অবস্থান করে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার পর্যন্ত ব্যবাসায়ীরা কাছে দাম কমানোর এই ধরনের সকরারি কোনো নির্দেশনা পাননি। ফলে তারা আগের দামেই পাইকারী ও খুচরা বাজারে তেল বিক্রি করছেন। এমনিক সরকারি নির্দেশনা পেলেও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অন্তত আরো সাত দিন সময় লাগবে তাদের। শনিবার সকাল থেকে খোলা বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৩ টাকা থেকে ৮৮ টাকায় এবং বোতলজাত তেল প্রতি লিটার ৯৫ টাকা থেকে ১০২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ৪৮০ টাকায়।
এছাড়া পাইকারী বাজারে সয়াবিনের দামও গতকাল থেকে আরো বেড়েছে। গতকাল মণপ্রতি সয়াবিনের দাম যেখানে ২ হাজার ৯৫০ টাকা ছিলো সেখানে শনিবার সেটি ১৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৬৫ টাকা। আর সেটি খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০ টাকায়। এছাড়া পামওয়েলের দামও আগের মত স্থিতিশীল, পাইকারী বাজারে বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২ হাজার ৩২ টাকায়। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২১শ’ টাকায়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড এসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক ছগীর আহমেদ বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা এখনো সম্ভব হয়নি। যেহেতু এই ঘোষনার আগেই মিল মলিকদের কাছ থেকে ডিলাররা বেশি দামে তেল কিনেছে। তাই সরকারি সিদ্ধান্তে যদি তেল বিক্রি করা হয় তাহলে তেলের ডিলার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। সেজন্য কয়েক দিনের মধ্যে আমরা বৈঠক করে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তেলের দাম কমাব।’
আবু তৈয়ব নামে ভোজ্য তেলের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে দামে মিল থেকে তেল আমরা স্টক করেছি। এখন সেই দামে বিক্রি করতে না পারলে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হবে। সেজন্য হুট করেই সরকারি সিদ্ধান্ত আমরা মানতে পারছিনা। আগের রেটে কেনা তেল বিক্রির পরই সরকারি রেটে তেল বিক্রি করা হবে।’
এদিকে পাইকারী তেল ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘গত ১০ দিন আগে সয়াবিন তেলে মণপ্রতি ২শ টাকা করে দাম কমেছিল। কিন্তু এখন চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় শনিবার থেকে সেটির দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে সেটি আরো বাড়বে। যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়বে।’
তবে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও তেল ব্যবসায়ী আলমগীর পারভেজ দাবি করেছেন, দুপুরের পর থেকে অনেকে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে লিটার প্রতি পাঁচ টাকা কমে তেল বিক্রি করছেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ জাতীয় কমিটির (ক্যাব) কেন্দ্রিয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্তের পরও ব্যবসায়ীরা তেলের দাম না কমানোর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের মন্ত্রীর সামনে কমিটমেন্ট করেও সেটি ভোক্তা পর্যায়ে বাস্তবায়ন করাতে পারছেনা। এখন সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার কী ধরনের মনিটরিং করবেন সেটি তারাই ভালো জানে।’

