আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নৌবাহিনী প্রধান জানিয়েছেন, দেশটির জলসীমায় প্রবেশের দায়ে গ্রেফতারকৃত ১০ মার্কিন নাবিকের ভুলের জন্য ইরানের কাছে ক্ষমা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গ্রেফতারকৃতদের এ ধরনের ভুলকে ‘অপেশাদার’ কাজ বলেও মন্তব্য করেছেন নৌবাহিনী প্রধান জেনারেল আলি ফাদাবি। তাদের খুব শিঘ্রই মুক্তি দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, এমন একটি স্পর্শকাতর সময়ে এই ঘটনাটি ঘটলো যখন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের মধ্যকার পরমাণু চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবেদ জারিফের সাথে যোগাযোগ করেন।
জেনারেল ফাদাবি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। তিনি কেরিকে বলেছেন, তারা আমাদের জলসীমার মধ্যে ছিল, যা হওয়া উচিৎ ছিল না। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমা চাওয়ার আহবানও জানান তিনি।’
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত নয় পুরুষ এবং এক নারী নাবিককে বুধবার মুক্তি দেয়ার কথা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কেরির ক্ষমা চাওয়ার বিষয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ অভিযান চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি টহল নৌযান যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে, যার একটি ইরানের ফার্সি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই দেশটির সমুদ্রসীমা কঠোরভাবে পাহারা দিয়ে আসছে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী। সিএনএনের দেয়া তথ্য অনুসারে, ২০০৪ সালে একবার ইরাক ইরানের মধ্যবর্তী ‘শাত-ইল-আরবে’ যুক্তরাজ্যের একটি নৌযান ঢুকে যাওয়ার পর আট ব্রিটিশ নাগরিকসহ তা গ্রেফতার করে ইরানের রক্ষীবাহিনী। ২০০৭ সালেও একবার ১৩ দিনের জন্য একটি ব্রিটিশ নৌযানকে আটকে রেখেছিল ইরান।

