আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি শহর মানবিজ। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বাইরের দেশের কেউ খুব একটা শোনেনি শহরটির নাম। একটি কারাগার আর একটি ময়দার কারখানা ছাড়া তেমন কিছু ছিলও না শহরটিতে।
তবে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এটি দখল করে নেয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জিহাদিদের জন্য এটিকে একটি অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে বাস করা বেশিরভাগ বাসিন্দাই যুক্তরাজ্য থেকে আগত। আর এ কারণেই স্থানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘লিটল লন্ডন’ অর্থাৎ, ছোট লন্ডন।
গাড়িতে চড়ে এলে তুরস্কের সীমান্ত থেকে মাত্র আধ ঘণ্টার পথ এই মানবিজ শহরটিতে প্রথমেই বিরতি নেয় ইউরোপ থেকে আসা আইএসের জিহাদিরা। শহরটি এখন আইএসের তথাকথিত খিলাফত রাষ্ট্রের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ব্রিটিশ গণমাধ্যম টেলিগ্রাফকে জানান, গত বছরও এখানে ব্রিটিশ জিহাদিদের সংখ্যা ১০০’র বেশি ছিল না। বর্তমানে এখানে ৩০টি জাতির লোক বাস করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্রিটিশ। এরপরই আছে জার্মানি, ফ্রান্স, সৌদি আরব এবং আলজেরিয়া থেকে আগতরা।
সিরিয়ার যেকোনো শহরের তুলনায় এখানে সবচেয়ে বেশি ইউরোপীয় বাস করে। ২০১১ সালে যুক্তরাজ্য থেকে প্রায় ৭০০ জিহাদি এসেছিল এখানে। ধারণা করা হয়, এদের প্রায় অর্ধেক পরে নিজেদের দেশে ফিরে গেছে। শহরটির জনসংখ্যা বাড়াতে আইএস তাদের নববিবাহিত সদস্যদের তাদের রাজধানী রাক্কাতে রাখার পরিবর্তে মানবিজে পাঠিয়ে দেয়।
শহরটিতে আইএসের কঠোর শাসন চলে। নারীরা নিজেদের না ঢেকে ঘরের বাইরে যেতে পারে না। পশ্চিমা পোশাক, সংগীত এবং ধূমপান এখানে নিষিদ্ধ। শহরটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। বিদেশি যোদ্ধাদের জন্য এখানে ছোট ছোট ভবন বরাদ্দ দেয়া হয়।

