খুলনা প্রতিনিধি : আজ থেকে পাট রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ী ও রপ্তানীকারকরা। মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কারসাজি ঠেকানো ও পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়াতে আগামী এক মাস সব ধরনের কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।
গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এদিকে পাট রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করায় কাঁচা পাট রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। তবে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের কর্মকর্তারা সরকারি এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এতে পাটকলগুলো প্রয়োজনীয় পাটের চাহিদা মেটাতে পারবে। তবে, পাট মজুদকরা হলে এ উদ্যোগে ভেস্তে যেতে এমনও শঙ্কা করছেন তারা। আর ফরিয়াড়া যাতে পাট মজুদ করতে না পারে সে জন্য কঠোর নজরদারি রয়েছে বলে পাট অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন বিজেএর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের কাঁচা পাট ভারত, পাকিস্তান, চীন, ব্রাজিল, আইভরিকোস্ট, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, রাশিয়া, জিবুতী, নেপাল, কিউবা, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রায় ২৮/৩০টি দেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাঁচা পাট রপ্তানি হয় পাকিস্তান, চীন ও ভারতে।
সূত্রমতে, দেশের পাটকলগুলোর মালিকরা বেশ কিছুদিন ধরে কাঁচা পাট রপ্তানি নিষিদ্ধ করার দাবি করে আসছিল। তাদের দাবি, এবার উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। পাশাপাশি মজুদদাররা বিপুল পরিমাণ পাট মজুদ করে সঙ্কট তৈরি করছিল। এতে পাটের দাম বেড়ে গেছে; মিলগুলোও প্রয়োজনীয় পাট পাচ্ছে না। পাটের মূল্য স্থতিশীল রাখতে এবং মিলগুলোর পাটের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে।
পাট রপ্তানিকারক ও খুলনার আকুঞ্জি ব্রাদার্সের মালিক হারুন-অর-রশিদ জানান, এক মাস পাট রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করায় ব্যবসায়ী ও রপ্তানীকারকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে পাটের মুল্য হ্রাস পাবে। ভরা মৌসুমী রপ্তানি না হলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, আর বর্তমানে যখন বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন পাট রপ্তানির অর্ডার রয়েছে। অর্ডার অনুযায়ী পাট দিতে না পারলে বায়ার কমে যাবে। সেই সঙ্গে রপ্তানি হ্রাস পাবে। এর আগেও ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সরকারি সিদ্ধান্তে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় রপ্তানি না হওয়ায় পাকিস্তান ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের বেশকিছু পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে পাট রপ্তানিতে বিপাকে পড়ে ব্যবসায়ীরা।
পরে আন্দোলনের মাধ্যমে যদিও রপ্তানি আবারও শুরু হয়। তবে সেই রেশ রয়ে যায়। মিলগুলো বন্ধ হওয়ায় দেশগুলোতে পাটের চাহিদা কমে যায়। আগে যেখানে পাকিস্তান ৬/৭ লাখ বেল পাট নিতো, গত বছরে তারা মাত্র ৩ লাখ ৮৮ হাজার বেল পাট নিয়েছে। এছাড়া চীনসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে পাট নেয়া কমিয়ে দেয়। ২০১২ সালের পর থেকে বিশ্ব বাজারে কাঁচা পাটের চাহিদা হ্রাস এবং রপ্তানি কমে যায়।
তবে, রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলের কর্মকর্তারা ভিন্ন কথা বলছেন। পাট রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় দেশের মিলগুলো প্রয়োজনীয় পাট কিনতে পারবে। মিলগুলো সচল রাখা সম্ভব হবে।
প্লাটিনাম জুট মিলের প্রকল্প প্রধান আবু সায়েদ মো. মামুনুর রহমান বলেন, মিলে পাট সঙ্কট রয়েছে। এছাড়া মৌসুম থাকা সত্তেও পাটের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র একমাসের ব্যবধানে ৩ থেকে ৫শ টাকা বেড়েছে। আগে যে পাট ক্রয় করা হয়েছে ১৬ থেকে ১৮শ টাকায় বর্তমানে মূল্য বেড়ে হয়েছে ২১ থেকে ২২শ টাকা। পাট রপ্তানি বন্ধ হলে মিলগুলো প্রয়োজনীয় পাট সঠিক মূল্যে কিনতে পারবে।
একই সুর দিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত দৌলতপুর জুট মিলের প্রকল্প প্রধান তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ফরিয়া ব্যবসায়ীরা যাতে গোডাউনে পাট মজুদ করতে না পারে সে কারণে কঠোর নজরদারি রাখা প্রয়োজন।’
পাট অধিদপ্তর খুলনার সহকারী পরিচালক আব্দুল করিম জানান, ফরিয়া ব্যবসায়ীরা যাতে গোডাউনে এক হাজার মন পাট এক মাসের বেশি মজুদ রাখতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রয়েছে।’

