অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : চলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬) প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দাতাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ঋণের প্রতিশ্রুতিই আদায় করতে পারেনি সরকার।
এমন তথ্যই উঠে এসেছে অর্থনীতি সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক প্রতিবেদনে।
প্রতিশ্রুতি না আসার কারণ হিসেবে ইআরডি সংশ্লিষ্টরা জানান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার ফলে এখন পর্যন্ত দাতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ঋণ প্রতিশ্রুতি চুক্তি করা যায়নি।
এবিষয়ে ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ অর্থবছরের মাত্র ৩ মাস গেল। দাতারা আমাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে, এরপর তারা প্রতিশ্রুতি দেবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে পাইপ লাইনে থাকা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে দাতাদের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি হবে বলে আশা করছে ইআরডি।’
এ সময়ের মধ্যে দাতাদের সঙ্গে ঋণের চুক্তি না হলেও সামান্য পরিমাণ অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে সরকার। যার পরিমাণ মাত্র ৫ কোটি ২৮ লাখ ডলার। কিন্তু গত অর্থবছরের একই সময়ে দাতাদের কাছ থেকে মোট প্রতিশ্রুতি আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে ৩৮ কোটি ডলার আর অনুদান হিসেবে ছিল ৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
বিদায়ী (২০১৪-১৫) অর্থবছরেও দাতাদের কাছে থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তার সবটুকু আদায় করতে পারেনি সরকার।
উন্নয়ন প্রকল্পে ৬০০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রতিশ্রুত অর্থ পাওয়া গিয়েছিল ৫২১ কোটি ডলার।
তবে চলতি অর্থবছরে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে মোট ৫৭৩ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
এদিকে, এ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে দাতাদের প্রতিশ্রুতি আদায় না হলেও অর্থবছরের দাতাদের অর্থছাড় বেড়েছে।
প্রথম প্রান্তিকে মোট অর্থছাড় হয়েছে ৫০ কোটি ২২ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে ছাড় হয়েছে ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। আর অনুদান হিসেবে ছাড় হয়েছে ৯ কেটি ৪৩ লাখ ডলার।
এ অর্থের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ অর্থছাড় দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে ১৯ কোটি ২০ লাখ এবং ৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার অনুদান হিসেবে ছাড় করেছে।
জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) ঋণ হিসেবে ৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার এবং অনুদান হিসেবে ৩৮ লাখ ডলার অর্থছাড় দিয়েছে।
এছাড়া, এডিবি ৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার (ঋণ), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার (ঋণ), রাশিয়া ২ কোটি ২৭ লাখ ডলার (ঋণ) ছাড় করে। অনুদান হিসেবে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) অনুদান ছাড় করে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলার।
গতবছরের একই সময়ে মোট অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ১ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ ৪২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আর অনুদান ৪ কোটি ৭ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকার ঋণের সুদ ও আসল হিসেবে বিভিন্ন দাতাসংস্থাকে পরিশোধ করেছে ২৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল ১৮ কোটি ২০ লাখ ডলার আর সুদ ৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আসল ও সদসহ পরিশোধের পরিমাণ ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল ৩০ কোটি ১৪ লাখ ডলার আর সুদ ৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার।

