ঢাকাFriday , 30 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোবাইল ব্যাংকিং
লেনদেন ছাড়িয়েছে ৫শ কোটি, সব থেকে এগিয়ে বিকাশ

Link Copied!

Bkash-BBঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত টাকা পাঠানো, বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধসহ নানা কারণে ব্যবহার বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের। এর ধারাবাহিকতায় এখন এই চ্যানেলে দৈনিক লেনদেন হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকার ওপরে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রথমবারের মতো গত সেপ্টেম্বরে দৈনিক গড় লেনদেন ৫শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অবশ্য লেনদেন বাড়লেও গত কয়েক মাস ধরে চালু (অ্যাকটিভ) অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমছিল। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সেপ্টেম্বরে চালু অ্যাকাউন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১৭ লাখে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২ কোটি ৯২ লাখ ছাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট মাসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নিবন্ধিত গ্রাহকসংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮৭ লাখ ৫৭ হাজার। আর সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯২ লাখ ১২ হাজারে। সেই সঙ্গে লেনদেনে সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যাও বেড়েছে ২২ লাখ।
গত আগস্ট মাসে সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার। আর সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার। সেই হিসাবে মাসিক গ্রাহক সংখ্যা ২২ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণত যেসব হিসাবে একটানা তিন মাসের বেশি লেনদেন হয় না, সেসব হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে ধরা হয়। আর অন্ততপক্ষে তিন মাসের মধ্যে একবার লেনদেন করেছে এমন হিসাবকে সক্রিয় বলে ধরা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বরে গ্রাহক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। ওই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার ৬৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়। জুলাই মাসে যার পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। আগস্টে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা। আর সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
সে হিসাবে মাসিক ও দৈনিক লেনদেন ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে গ্রাহক ও লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিনিধি বা এজেন্ট। আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বরে এজেন্টের সংখ্যা ৮ হাজার ৫০২ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ জনে।
সেপ্টম্বরে সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রবাসী-আয় লেনদেন হয় এই সেবার মাধ্যমে। আগস্ট মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী আয় আসে ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে উত্তোলন করেছেন ৫ হাজার ৪৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা যা আগস্টে ছিল ৪ হাজার ৬৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
সেপ্টেম্বর মাসে অন্যের হিসাবে পাঠিয়েছেন এমন লেনদেনের পরিমাণ ২ হাজার ৪৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আগস্টে অন্যের হিসাবে পাঠিয়েছেন ২ হাজার ২৪৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১১৯ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছে ১৬৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের মাসে সেবা-বিল পরিশোধ হয়েছে ১১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে অন্যান্য খাতে পরিশোধ হয়েছে ৩১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা যা আগের মাসে পরিশোধ হয়েছে ২৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘জুলাই মাসে ঈদুল ফিতরের কারণেও সক্রিয় ও নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছিল। ওই সময় অনেকে নিজ বাড়িতে বা আত্মীয়স্বজনকে টাকা পাঠাতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছিলেন। কিন্তু আগস্টে ওই ধরনের ধর্মীয় উৎসব না থাকায় গ্রাহকসংখ্যা এবং লেনদেন কমেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এজেন্টদের ব্যক্তিগত হিসাব থেকে ব্যবসায়িক লেনদেন নিরুৎসাহিত করতে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অনেক এজেন্টের হিসাব বাতিল করা হয়েছে।’ গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে এখন সঠিক গ্রাহক ও লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মকর্তা জানান।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত ২৮ ব্যাংককে অনুমোদন দিলেও এ সেবা দিচ্ছে ২০ ব্যাংক। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং এরপরই আছে ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং। সম্প্রতি এ সেবার নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি ছাড়া অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতা, ঘুষ লেনদেনসহ নানা অপরাধমূলক কাজে অর্থ লেনদেনে যাতে এ মাধ্যম ব্যবহৃত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।