নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রথমবারের মতো বিদেশি কোম্পানির গ্যাস কূপ খননের কাজ পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। সিঙ্গাপুর ভিত্তিক ক্রিস এনার্জির নিয়ন্ত্রণে থাকা কুমিল্লার বাঙ্গুরা গ্যাস ক্ষেত্রে দুটি কূপ খনন করবে দেশি প্রতিষ্ঠানটি। কয়েকটি বিদেশি কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাপেক্স এ কাজ পেয়েছে। বুধবার ক্রিস এনার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বাপেক্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বুধবারই কাজ শুরুর অনাপত্তিপত্র (লেটার অব ইনট্যান্ট) পেয়েছি।’
দেশি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোম্পানির কূপ খননের কাজ পেলেও দেশি গ্যাসক্ষেত্রের কূপ খননের কাজ দেয়া হয়েছে বিদেশি কোম্পানিকে। বাপেক্সের গড় ব্যয়ের তিনগুণ বেশি ব্যয়ে বাঙ্গুরার পার্শ্ববর্তী শ্রিকাইল গ্যাস ক্ষেত্রসহ রশিদপুর ও বাখরাবাদের ৫টি কূপ খনন করবে রাশিয়ার কোম্পানিটি।
জানা গেছে, ভ্যাট ট্যাক্সসহ শ্রিকাইলে কূপ খনন খরচ পড়বে ২৫০ কোটি টাকার মতো। অথচ একই কূপ খননে বাপেক্সের প্রস্তাব ছিল ৭০ কোটি টাকা।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার বাপেক্সকে সৎসন্তান ভাবলেও বহুজাতিক তেল গ্যাস কোম্পানির আস্থা অর্জন করেছে।
ক্রিস এনার্জির ডাকা দরপত্রে অংশ নেয় গ্যাজপ্রোমের ঠিকাদার হয়ে বাংলাদেশে কূপ খনন করা চীনা কোম্পানি এরিয়েল। বাপেক্স সূত্র বলছে, বুধবারই ক্রিস এনার্জি লেটার অব ইনট্যান্ট (কাজ শুরুর অনাপত্তিপত্র) দিয়েছে বাপেক্সকে। এখন কূপ খনন করার খরচ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে।
সূত্র জানায়, ক্রিস এনার্জি বাঙ্গুরায় দুটি নতুন গ্যাস কূপ খননে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রাথমিকভাবে ১০টি কোম্পানি অংশ নেয়। যোগ্য বিবেচনায় চারটি কোম্পানির সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়। এই তালিকায় উজবেকিস্তানভিত্তিক এরিয়েল এবং চীনের সিনোপ্যাকের মতো বহুজাতিক কোম্পানিও ছিল। যার মধ্যে এরিয়েল গ্যাজপ্রোমের হয়ে বাংলাদেশে কূপ খনন করেছে। আর সিনোপ্যাক পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করতে চায়। কিন্তু তাদের বদলে দেশীয় কোম্পানি বাপেক্সই কাজ পেয়েছে।
এর আগে বাপেক্স বিদেশি কোম্পানির পুরোনো কূপ সংস্কার (ওয়ার্কওভার) করলেও নতুন কূপ খনন করেনি কখনো।
এদিকে সরকার বাপেক্সে এর ওপর ভরসা না করে বিদেশি কোম্পানিকে দেশের অভ্যন্তরের কাজ দেয়ায় সমলোচনা করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রায় একই সময়ে সৃষ্ট ভারতের ওএনজিসি এখন ১৭টি দেশে তেল গ্যাস অনুসন্ধান উত্তোলনে কাজ করছে। তারা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাস ব্লক ইজারা নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তেলগ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বাপেক্সের মধ্যেও এ ধরনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণে বিদেশি তো দূরে নিজ দেশের কাজই পায় না কোম্পানিটি।’ তার অভিযোগ, একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে গ্যাস খাত সব সময় বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে গেছে। সঠিক পরিচর্যার অভাবে বাপেক্সের বিকাশ সম্ভব হয়নি।
প্রথমদিকে নিজস্ব অর্থ না থাকায় বাপেক্সেকে সরকার বা অন্য কোম্পানির মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হতো। ২০০০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি স্বাবলম্বী কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। তখন থেকে বাপেক্স তেল গ্যাস উত্তোলনও শুরু করে। এছাড়া গত কয়েক বছরে খনন যন্ত্রসহ (রিগ) বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কেনা হলেও রয়েছে জনবল ঘাটতি। এছাড়া রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিমাতা সুলভ আচরণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।
জানা গেছে, বাপেক্সের বেতন ভাতা অন্যান্য কোম্পানি থেকে অনেক কম। ফলে দক্ষ কর্মী ধরে রাখা কঠিন। অনেক কর্মী এখানে কিছু দিন কাজ করে বহুজাতিক কোম্পানিতে বেশি বেতনে চলে যান। আধুনিক সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে।
সরকারের বিরূপ আচরণ ও নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও এগিয়ে গেছে বাপেক্স। কূপ খননে বিদেশি অনেক কোম্পানির চেয়ে তার সাফল্যের হার বেশি।

