ঢাকাWednesday , 19 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ময়ময়সিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে কী খাচ্ছে আর কী পাচ্ছে হাজতি কয়েদিরা?

Link Copied!

Arestময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়ময়সিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি আসামিদেরকে নিয়ে কি পরিমাণ অবৈধ বাণিজ্যে মেতে রয়েছে তা সাধারণ মানুষ কখনো কল্পনায় আনতে পারেন না। জুলুম, নির্যাতন, অমানবিক ব্যবহার, ঘুষ ও হয়রানি বাণিজ্যে প্রত্যেক কর্মকর্তা থেকে সাধারণ কর্মচারি পর্যন্ত যেভাবে মেতে উঠেছেন তা অকল্পনীয়। ময়ময়সিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে ঘুষ ও অনিয়ম বাণিজ্যের খাত অনেক এবং তার মধ্যে খাবারের বিষয়টি অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবছর সরকারি খাত হতে কি পরিমাণ দুর্নীতি করে কারাকর্তৃপক্ষ এবং এর প্রতিটি কর্মরত সদস্যরা ফুলে ফেপে উঠেছেন সেটাও বিস্ময়কর। কারাগারে আটককৃত হাজতি আসামি এবং সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা কিভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আর এই কারাগারের প্রতিটি ইটের কনা ও এখানকার দায়িত্বরত ব্যক্তিরা কিভাবে সাধারণ হাজতি ও কয়েদিদের জোঁকের মতে চুষে যাচ্ছেন তারই সামান্য আলোকপাত আবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকল হাজতি ও কয়েদিদের খাবারের জন্যে সরকারিভাবে যে ভাতের চাল বরাদ্দ হয় তা খুবই উন্নতমানের যা সিদ্ধ চাল ১নং এর মানের অথচ তাদেরকে যে চালের ভাত দেওয়া হয় তার মান খুবই নিম্নমানের এবং এগুলো রান্নার দু’এক ঘণ্টা পরেই উঁটকো গন্ধ বেরিয়ে আসে যাা খাবারের অযোগ্য। তাহলে সেই ভাল মানের চালগুলো যায় কোথায়? কারাগারের নিয়মানুসারে প্রতিটি বন্দি আসামিদের জন্যে খাবারের মধ্যে মাছ ও মাংসের পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয় দৈনিক ৭০ গ্রাম অথচ তাদেরকে দেওয়া হয় ২০-২৫ গ্রাম মাত্র! তাহলে বাকীগুলো কোথায় যায় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আটা ও ময়দা দিয়ে বানানো খাবারের জন্যে ১নং মানের আটা ও ময়দা দেওয়ার কথা থাকলেও আসামিদের দেওয়া হয় একেবারে পোকাধরা নিম্নমানের আটার রুটি যা গবাদি পশুকে দিলেও খেতে অনীহা প্রকাশ করবে। এছাড়াও বন্দিদের খাবারে ভাতের সাথে সবজি হিসেবে আলু, বরবটি, ঢেঁড়শ, শিম, ঋতুভিত্তিক শাকসবজি দেয়ার কথা থাকলেও সারা বছর ধরে দেয়া হয় স্বাদবিহীন অতি পুরাতন মিষ্টি কুমড়া, কচু এবং কয়েদিদের মাধ্যমে চাষ করা কলমির শাক। এতে কায়েদিরা খাবারের রুচিবোধ হারিয়ে ফেলে এবং পুষ্টির অভাবে অনেকেই জীর্ণশির্ণ হয়ে আছে। অথচ কয়েদিদের দ্বারা চাষকৃত শাকসবজিগুলো বাইরে থেকে কেনা হয়েছে বলে সরকারি হিসেবে দেখানো হয় এবং এতো সরিষার ভেতর ভূত থাকে সেটাই প্রমাণ করে দেয়। এক্ষেত্রে সাধারণ বন্দিরা কষ্ট পাচ্ছে আর সরকারকে ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে সহস্র কোটি টাকা। তাহলে এসব অবৈধ টাকা পয়সার কিংবা সাধারণ বন্দিদের দুঃখ দুর্দশার সমাধান কি আদৌ মিলবে? প্রতি বেলায় ভাতের সাথে যে তরকারি দেওয়া হয় তা একেবারে অখাদ্যরূপে বিবেচিত। তবে খাবারের চৌকা তে বা হাজতি ও কয়েদিদের রান্নার জন্যে ব্যবস্থা যেখানে করা হয় সেখানে যে রান্না করা হয় সেগুলো অসদুপায়ে আলাদাভাবে বিক্রি করা হয় এবং চৌকার পাশাপাশি প্রতি ওয়ার্ডে এখানে রয়েছে একটি করে ভ্রাম্যমাণ ক্যান্টিন যেখানে অত্যন্ত চড়ামূল্যে বিভিন্ন খাবার বিক্রি হয় এসব ভাসমান ক্যান্টিন থেকে। প্রচলিত নিয়মানুসারে পিরানহা নামক মাছ খাওয়া এবং বিক্রি করা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও এই কারাগারের অভ্যন্তরের ক্যান্টিনগুলোতে বড় তেলাপিয়া বলে হরহামেশাই বিক্রি করে যাচ্ছে। যদি এসব রাক্ষসী মানুষখেকো পিরানহা মাছ নিষিদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে এসব এখানে আসে কোথা থেকে আর কর্তৃপক্ষ কি তাহলে কি আমদানি করা হচ্ছে সে বিষয়ে উদাসীন! আর যদি উদাসীন হয় তাহলে এতগুলো মানুষের জীবন তাদের কাছে সপে দেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু? আর নিরীহ হাজতী আসামীরা এসব নিষিদ্ধ রাক্ষসী মানুষ খেকো মাছ না জেনেই চড়ামূল্যে ক্রয় করে খাচ্ছে। আর উন্নত মানের খাবার কিনে খেতে হলে যাদের টাকা পয়সা বা বিত্তবান তারাই এসকল খাবার কিনে খায় আর সাধারন হাজতীরা এসবের ধারে কাছেও নেই। এভাবে কারাগারে কোটি টাকা দুর্নীতি আর অনিয়ম হচ্ছে তা অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যেন দেখার কেই নেই।