নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর চারপশের বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদী রক্ষায় নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা নদীর আদি (পুরাতন) খাল (চ্যানেল) উদ্ধার করার জন্য জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘নদীর নাব্যতা রক্ষার্থে গঠিত টাস্কফোর্স এর ২৯তম সভা’ শেষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘নদীর অবৈধ দখল রোধে আমরা ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের কাজ শেষ করেছি। আরো ৫০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট ১৮০ একর জমি উদ্ধার এবং ৮২৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। এ পর্যন্ত অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে ২১৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। এ ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে দ্রুত কার্যকর করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
মন্ত্রী জানান, ট্যানারী মালিকদের ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরেও ট্যানারি মালিকরা চলে যেতে চাচ্ছেন না। এ নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী।
শাজাহান খান বলেন, ‘র্যাব ও নৌ-পুলিশের সদর দপ্তর স্থাপনে আর কোনো সমস্যা নেই। আমরা কেরানিগঞ্জে র্যাবের জন্য ১০ একর আর নৌ-পুলিশের জন্য ৫ একর জায়গা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ব্যাপারে জমির বিষয়টি দ্রুত চিহ্নিত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চুড়ান্ত করবেন বলে তাদের জানানো হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জের নদীর সীমানা পিলার স্থাপন করতে তিন মাসের মধ্যে সময় দেয়া হয়েছে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ‘এই সময়সীমার মধ্যে নারাণগঞ্জের নদীর সীমানা চিহ্নিত করে পিলাল স্থাপন করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে।’
এসময় পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য সানজিদা খানম, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

