নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জনগণের সেবক হিসেবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
সোমবার সচিবালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারি কল্যান সমিতি আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
সংগঠনের সভাপতি মো. মোতালিব ভূইঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবু নাসের চৌধুরী, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. আসলামুল আলম।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যারা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলেন তাদের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক, সুখী এবং সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার জন্য তিনি আজীবন লড়েছেন। শৈশবকাল থেকে তিনি সাধারন মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে থেকেছেন। তার করুণ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে গেছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভাবশিষ্য। সোহরাওয়ার্দী যা বলতেন তা তিনি বিনাবাক্যে পালন করেছেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত দেশে কোন গণতন্ত্র ছিল না। ’৬২ সালের পর সামরিক শাসন শিথিল হলে পরবর্তী করনীয় নিয়ে সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে মতের অমিল ঘটে।
এ সময় সোহরাওয়ার্দী সবাই মিলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন আর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সে সময় থেকেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু কাজ শুরু করেন। তিনি একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যান।
মুুহিত বলেন, বঙ্গবন্ধু লন্ডনে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি আখাউড়া হয়ে আগরতলা সেখান থেকে দিল্লী হয়ে লন্ডনে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু শাসক গোষ্ঠি খবর পেয়ে আখাউড়া থেকে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়ানো হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর চক্রান্ত করা হয়। কিন্তু এদেশের জনগণ গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে কারামুক্ত করে। তীব্র গণ আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালে সাধারন নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগ নিরস্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও নানা টালবাহানা করে দেশকে এক সংঘাতময় অবস্থায় ঠেলে দেয়। পরবর্তী ইতিহাস আমাদের সবার জানা। দীর্ঘ নয় মাস রক্তাক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় লাভের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়।
স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে যখন একটি স্থিতিশীল অবস্থায় দাঁড় করান ঠিক তখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে সাময়িক স্থবির করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করতে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবু নাসের বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয শোক দিবস। এ দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে সোনার বাংলায় পরিনত করার শপথ নিতে হবে। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বাঙালি ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেন।

