ঢাকাSaturday , 15 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট

Link Copied!

15-August
নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। বাঙালির সবচেয়ে হূদয়বিদারক ও মর্মান্তিক দিন। বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী। জাতির জনককে এদিনে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা নির্মমভাবে হত্যা করেন।
বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন আরো প্রাণ হারিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল। খুনিদের বুলেটে সেদিন প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে। প্রতিবছর ১৫ আগস্ট আসে বাঙালির হৃদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে। আজ জাতীয় শোক দিবস।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সেদিন দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। সে সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানির কার্লসরুইয়ে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সেদিন যে বীভৎস ঘটনা ঘটেছিল তা স্মৃতিতে আনলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট খুনিও বোধ হয় আঁতকে উঠবে। কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালিয়ে পৈশাচিক পন্থায় ঘাতক দল রাতের অন্ধকারে হামলা চালায় বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে। সেদিন ঐ ভবনের প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড়ো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। রক্তগঙ্গা বয়ে যায় পুরো বাড়িতে। গুলির আঘাতে দেয়ালগুলোও ঝাঁঝরা হয়ে যায়। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে ছিলেন ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। নিথর দেহের পাশেই পড়ে ছিল তাঁর ভাঙ্গা চশমা। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, টেলিফোন অপারেটর, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, নিচতলার সিঁড়িসংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবীর ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ। লুঙ্গিতে জড়ানো শিশু রাসেলের রক্তভেজা লাশ দেখে খুনিদের প্রতি চরম ঘৃণা-ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পায় না মানবতাবাদী বিশ্বের কোন মানুষ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক ৬ খুনির মধ্যে ৪ জনের অবস্থান এখনোও নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স। আর দু’জনের অবস্থান নিশ্চিত হলেও আইনি জটিলতায় তাদেরকে ফেরত আনা সম্ভব হচ্ছেনা। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে ২০০৯ সালে (বর্তমানে সাবেক) আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে প্রধান করে গঠন করা হয় আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স। যে চার খুনির সন্ধান জানা যায়নি তারা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশিদ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শরিফুল হক ডালিম, ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন। অবস্থান নিশ্চিত হওয়া কানাডায় অবস্থানকারী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এমএইচবি নুর চৌধুরী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা কর্নেল (অব.) এএম রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সক্রিয় কূটনৈতিক সাড়া মেলেনি। তা ছাড়া কানাডায় মৃত্যুদন্ডের বিধান না থাকায় নুর চৌধুরীকে হস্তান্তরে দেশটি আগ্রহী নয়। এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায় রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে সমস্যা হচ্ছে। আজ জাতি বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুর জন্য শোক জানাবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে। সারাদেশে জাতীয় পতাকা থাকবে অর্ধনমিত। আজ সরকারি ছুটি। শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দিনটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালিভোজের আয়োজন করেছে।
সরকারি কর্মসূচি : জাতীয় শোক দিবসে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। আজ সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এ সময় বিশেষ মোনাজাত ও কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সদস্য ও অন্য শহীদদের রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে সকাল ১০টায় পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে, ফাতেহা পাঠসহ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এ ছাড়াও অস্বচ্ছল দুস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী, ভাতৃপ্রতিমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে কবিতা পাঠ, রচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, পথনাটক, রক্তদান, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়ার আয়োজন করবে। এ দিন সারা দেশে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত্বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।
এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা আগামীকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেবেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা।