ঢাকাThursday , 13 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ

Link Copied!

railনিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যায়ে ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের (এলওসি) আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রেল ভবনে আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বালাজি রেল রোড সিস্টেম লিমিটেডকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগের চুক্তিপত্র সই হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার (পূর্ব) মোজাম্মেল হক ও বালাজি রেল রোড লিমিটেড এর পক্ষে হেড অব করপোরেট তপন ঘোষ চুক্তিপত্রে সই করেন।
রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় রেলওয়ের সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন, ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) খলিলুর রহমানসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘রেল একটি আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী বাহন। ভারতীয় এলওসির আওতায় আমরা অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছি।’
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে সেকশনের ৫১ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্বাসন, যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনের দ্রুত ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনসহ ১০ লাখ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে লাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ৯ জুন শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
রেলসূত্র আরও জানিয়েছে, কুলাউড়া জংশন থেকে শাহবাজপুর হয়ে সরাসরি ভারতে ব্রডগেজের রেলপথ হবে। বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে প্রটোকল সই হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৮৮৫ সালে স্থাপিত আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অংশ হিসেবে শাহবাজপুর-কুলাউড়া রেল লাইনে ঘন ঘন ট্রেন দূর্ঘটনা, কাঠের স্লিপার, সেতুসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ সংস্কারের অভাবে ২০০২ সালের ৭ জুলাই তৎকালীন বিএনপি জোট সরকার লোকসানসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে ট্রেনটি বন্ধ করে দেয়।

এরপর রেলপথটির সংস্কারসহ ট্রেন চালুর দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচী পালন করে আসলেও আজ অবধি এ সেকশনে ট্রেন চালু হয়নি। বৃটিশ আমলে নির্মিত আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অন্তর্ভুক্ত কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইন ভারতের পূর্বাঞ্চল শিলচর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ও এ লাইনে চলাচলকারী ট্রেন যাত্রীসহ মালামাল বহন করত। এ সেকশনে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর স্টেশনের মাধ্যমে প্রতিদিন দু’বার ট্রেন কুলাউড়া ও সিলেট আসা যাওয়া করত। এ লাইনে চলাচলকারী ট্রেন স্থানীয়ভাবে ‘লাতুর ট্রেন’ নামে অধিক পরিচিত ছিল।
রেললাইনটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা আর উদাসীনতায় রেললাইনের কোটি কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি লোপাট হয়েছে।
অভিযোগ ওঠেছে, কুলাউড়া-শাহাবাজপুর রেললাইনের পাশে রেলওয়ের ভূমির বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলে পাকাঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে ভূমিখেকো চক্র। এছাড়া রেলের অনেক ভূমি অবৈধ দখলে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ও স্থানীয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং ট্রেন চালুর দাবিতে সিলেট উন্নয়ন বিভাগসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নানান কর্মসূচী পালন করে ।
সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট এডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাছ খান ও বর্তমান হুইপ সংসদ সদস্য শাহাব উদ্দিন রেললাইন চালুর জোর দাবি জানিয়ে সংসদে বক্তব্য রাখেন। এরই আলোকে ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের শাহবাজপুর-কুলাউড়া সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদিত হয়। অনুমোদনের পর আর প্রকল্পটির কোনো কাজ হয়নি।
এরপর ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজারের বড়লেখা আসলে ঐ সময় বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহাব উদ্দিন আবারও রেললাইন চালুর জোর দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে রেললাইন চালুর ঘোষণা দেন। অবশেষে একনেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর-সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্প (সংশোধিত) অনুমোদন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র আরো জানায়, কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনঃচালু করার মাধ্যমে আঞ্চলিক রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে মূল প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে মোট ১১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় এবং ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। ওই সভায় ভারতীয় ডলার ক্রেডিট লাইনের (এলওসি) আওতায় প্রকল্পটির অর্থায়নের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।