নিজস্ব প্রতিবেদক : জালনোটের বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ও ভারতে মধ্যে দুই দিনের টাস্কফোর্স বেঠক সমাপ্ত হয়েছে আজ। বৈঠকে দুই দেশের সম্মতিতে একটি ‘মোমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ পুলিশ এবং ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকের এজেন্ডা ছিল- ‘জালনোটের বিস্তার রোধে করণীয় নির্ধারণ’।
বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংরাদেশ পুলিশের এডিশনাল আইজি মোখলেসুর রহমান এবং ভারতের পক্ষে এনআইএ-এর আইজি এসকে সিং।
তারা দুই দেশের সম্মতিতে তৈরি হওয়া ‘মেমোরেণ্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ এর কথা উল্লেখ করে জানান, দুই দেশে জালনোটর বিস্তার এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য অপরাধ রোধের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে গত বছর ভারতে এক দফা বৈঠক হয়েছিল। সেবার দুই দেশ উপরোক্ত বিষয়ে একমত হয়। তবে এবারের বৈঠকের মধ্য দিয়ে তারা একটি মেমোরেন্ডাম চূড়ান্ত করতে সমর্থ হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে জালনোট ঢুকছে। সেখানে বাংলাদেশের সীমান্তও রয়েছে। বাংলাদেশ থেকেও বলা হয়েছে একই কথা।
এবারের যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, জালনোটের ব্যাপার উভয় দেশ এবার থেকে তথ্য আদান-প্রদান করবে এবং একইসঙ্গে রুট সনাক্ত করবে। এছাড়া কারা বা কোন কোন চক্র জালনোট বিস্তারের জড়িত সে বিষয়ে ডাটাবেজ তৈরি করবে দু’ দেশ। এমনকি জালনোট সনাক্তকরণে ভারত বাংলাদেশকে আধৃনিক ও উন্নত ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট’ প্রদান করবে।
ভারতের এনআইএ-এর আইজি এসকে সিং বলেন, ‘আমরা ভারতীয় উপমহাদেশে জালনোটের বিস্তার রোধ করতে চাই। এজন্য বাংলাদেশকে আমরা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।
বাংলাদেশের পক্ষে আইজিপি মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জালানোটের সঙ্গে আরো বিভিন্ন অপরাধ জড়িত। বিশেষ করে মাদক, অস্ত্র এবং চোরাচালানের বিভিন্ন পণ্যের দাম মেটাতে জালনোটের ব্যবহার হয়।’
তিরি বলেন, ‘আমরা শুধু জাল নোট নয়, ভারত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অপরাধমূলক বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধপথে আসা ফেনসিডিল ও ছোট অস্ত্র। আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা তাদের জানিয়েছি।
তিনি বলেন, ভারত সরকার এনআইএ-র প্রধানকে যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছে। আমরাও চিন্তা করছি সে ধরনের কোনো আমাদের দেশেও নেয়া যায় কি না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করবো বলে ভাবছি।

