ঢাকাWednesday , 12 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পোশাকে সবচেয়ে কম মূল্য পায় বাংলাদেশ

Link Copied!

garmentsনিজস্ব প্রতিবেদক : তৈরি পোশাকের ক্রেতাদের কাছ থেকে অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম মূল্য পায় বাংলাদেশ। যে কারণে তারা সবচেয়ে কম মূল্য কমপ্লায়েন্সের (কারখানায় পরিপালনীয়) জন্য ব্যয় করেন বলে জানিয়েছেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়জ্জেম।
বুধবার ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘কমপ্লায়েন্সের সঙ্গে উদ্যোক্তা যে মূল্যমান পান তা সঙ্গত কিনা’ বিষয়ক এক সেমিনারে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা তুলে ধরেন। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ড. খোন্দকার গোলাম মোয়জ্জেম।
গবেষণা প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, দেশের ৩০-৪০ শতাংশ বড় ও মাঝারি কারখানার কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা বেশ ভালো। যে ফ্যাক্টরিগুলো কমপ্লায়েন্স হিসেবে পরিচিত। তবে ছোট ও সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করার যে সব ফ্যাক্টরি রয়েছে তাদের মধ্যে এগুলোর অনেক গ্যাপ রয়েছে। তবে কমপ্লায়েন্সের মধ্যে থেকে কাজ করে যেসব উদ্যোক্তা তারাও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় পোশাকের দাম পান সবচেয়ে কম।
তবে এখানে বাংলাদেশের উৎপাদন ও অ-উৎপাদনশীল পণ্যে যে পরিমাণ খরচ হয় তা প্রতিযোগী দেশ চায়না, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো, হন্ডুরাজ, হাইতিসহ বিভিন্ন দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম। আর বাংলাদেশের যে পরিমাণ পোশাক কারখানা রানা প্লাজার পরবর্তী সময়ে কমপ্লায়েন্সের পেছনে যতটা খরচ করেছে তার তুলনায় পোশাকের দাম বাড়েনি, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে দাম কমানোর চাপ এসেছে বলে জানানো হয়।
তবে এই কারণে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা যাতে না কমে অর্থাৎ কর্মপরিবেশে কমপ্লায়েন্স যাতে থাকে সে বিষয়ে থেকে সরে আসার কোন সুযোগ নেই বলে জানালেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘কমপ্লায়েন্স নিয়ে দরকষাকষির কোন সুযোগ নেই। তবে দেখতে হবে শ্রমিকের সুবিধা যাতে না কমে। উদ্যোক্তারা চাইলে ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারে।’
দেবপ্রিয় বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের ফ্যাক্টরিতে কমপ্লায়েন্স তৈরিকে কাজ করবে এর জন্য সরকারের একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন জরুরি। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে সুদের হার কমিয়ে। জায়গা, গ্যাস-বিদ্যুত দিয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে তাদের বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দেয়া। কারণ কেউ যখন বিনিয়োগ করে তা তো আর এক দু’বছরের জন্য করা হয় না। অবশ্যই মধ্যমেয়াদি একটা পরিকল্পনা নিয়েই তো যাওয়া যায় না। এটাও দেখতে হবে।’
তবে মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তাদের যে চাহিদা থাকবে সেটার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থা যদি হয় দীর্ঘমেয়াদি আর বিনিয়োগ করতে বলা হলো দীর্ঘমেয়াদি তবে তো একটা বিস্তর ফারাক তৈরি হয়ে যাবে। যদিও কমপ্লায়েন্স হলেই যে উদ্যেক্তারা লাভ করতে পারবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।’ আর কমপ্লায়েন্স তৈরিতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের যদি বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা না দেয়া হয় তবে তারা এ ধাক্কা সামলে ঠিকে থাকতে পারবে কি না সেটা একটা চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক খাতের বড় কন্ট্রিবিউশন রয়েছে যা কিনা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ খাতটি দেশের জিডিপিতে প্রায় ৩০ শতাংশ অবদান রাখে। সুতরাং সরকার এ খাতকে আরও উন্নত করতে বদ্ধ পরিকর।’
শিপার বলেন, ‘আমরা কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। শ্রমিকদের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজ করছি। যা বিভিন্ন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও করছে। আমরা শ্রম আইনে শ্রমিকদের নিরাপদ করার চেষ্টা করেছি। এসব করার একটাই কারণ এ খাতটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’ সরকার এ খাতের পাশে ছিল, আগামীতেও সবসময় থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত, শ্রমিক নেতাসহ আরো অনেকে।