আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার বেসামরিক লোকজনকে ইসলামিক স্টেট ও আসাদ বাহিনীর হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশটির উত্তরাঞ্চলে পুনরায় একটি নো ফ্লাই জোন(নিরাপদ অঞ্চল) গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে তুরস্ক। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেত দোভুতোগলু এ কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিবিসি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী আহমেত দোভুতোগলু বলেছেন, সিরিয়ার সংঘাতে যেসব মানুষ বাস্তুহারা হয়েছেন তাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে কাজ করবেন। ফলে ওই এলাকায় তুর্কি সেনা পাঠানোর বিষয়টিও তিনি একেবারে বাতিল করে দেননি।
তবে তার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেছেন, ওয়াশিংটন ওই এলাকা থেকে আইএসকে হটানোর একটা টেকসই পদক্ষেপের কথা বলেছে। তারা সেখানে কোন সেফ জোন বা নিরাপদ এলাকার কথা ভাবছে না। ওই মুখপাত্র আরো বলেন ‘সিরিয়াতে যদি মধ্যপন্থী বাহিনীর যথেষ্ট শক্তি থাকে তাহলে অন্যান্য দেশ এমনকি তুরস্কের কোন সৈন্য পাঠানোর দরকার হবে না।’
বিবিসি’র জেরেমি বোয়েন এর সাথে এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী দোভুতোগলু চার বছর ধরে সিরিয়াতে যে সংঘাত চলছে তা নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সিরিয়া সঙ্কট সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশেরও সমালোচনা করেছেন।
এ সময় তিনি তুরস্কের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কুর্দিরা ইসলামিক স্টেট ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে সাহায্য করার যে অভিযোগ এনেছে সেটি নাকচ করে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে সিরিয়ায় লাখ লাখ মানুষ তুরস্কে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব মতে তুরস্কে আশ্রয় নেয়া সিরিয় শরণার্থীদের সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ।

