নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্লগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কেউ লেখালেখি করলে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মঙ্গলবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্ধোধন শেষে তিনি একথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ব্লগার হত্যার কোনো কুল-কিনারা করতে না পারলেও ব্লগে ধর্মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করা ব্লগারদের প্রতি পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ও ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনারের সতর্কবাণী উচ্চারণের পর খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও একই সুরে কথা বললেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, যারা অন্য ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। যার যার ধর্ম সে পালন করবে। কিন্তু অন্য ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি করার এখতিয়ার কাউকে দেয়া হয়নি। ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা মিলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
নিলয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ ও ক্লু রয়েছে। এসব তথ্যপ্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আমরা অনুমান নির্ভর কিছু করতে চাই না। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব। রাজীব হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে তাদের বিচারকাজ চলছে। অভিজিৎ হত্যার খুনিদের ধরতে এফবিআই কাজ করছে। ওয়াশিকুর হত্যায় জড়িত দু’জনকে ধরে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। নিলয় হত্যায় জড়িতদেরও শিগগিরই পাকড়াও করা হবে।’
গত কয়েক বছরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রায় ১১ জন ব্লগার ও ব্যক্তি খুন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একটিরও কোনো সুরাহা করতে না পারলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোহাম্মদ রহমতুল মনির, ডিএনসি’র ডিজি বজলুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আমির হোসেন, পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ডিসি সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ ডিএনসি’র সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

