আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে নাক গলাচ্ছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তিনিই হচ্ছেন একমাত্র বিদেশি নেতা যিনি নিজের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে এ কাজ করছেন। সোমবার সিএনএন প্রতিনিধি ফরিদ জাকারিয়া’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
তিনি বলেছেন,‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জোর করে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত বিতর্কে নিজেকে জড়াচ্ছেন।’ এছাড়া জাকারিয়া তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘আর কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এ ধরণের গর্হিত কাজ করেছেন কি না’? জবাবে ওবামা বলেন,‘এই ধরনের আর কোনো উদাহরণ আমি মনে করতে পারছি না।’
এছাড়া মিগ নিউজকে দেয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনীতি অবরোধ তুলে নেয়ার মাধ্যমেই কেবল পরমাণু সঙ্কটের সমাধান হতে পারে। ওই অনুষ্ঠানে দর্শক আসনে বসে থাকা ২২ বছরের এক ইরানি তরুণী মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে আরো জানতে চেয়েছিলেন, অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের মাধ্যমে ইরানি জনগণকে আঘাত না করে পরমাণু চুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল কিনা। উত্তরে ওবামা বলেন, তার ধারণা, ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে আলোচনার টেবিলে আনতে এই অবরোধই ছিল একমাত্র পথ।
গত মাসে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করতে তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এই চুক্তির ওপর মার্কিন কংগ্রেসে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেসে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থায় রয়েছে। তারা এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। রিপাবলিকানদের বিরোধিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমেরিকান জনগণকে প্রভাবিত করতে সম্প্রতি সে দেশের ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চুক্তি বিরোধী প্রচারনা শুরু করেছেন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সমালোচনা করে ওবামা বলেছেন,‘ এ কথা ঠিক যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর। কিন্তু আমি মনে করি এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ভুল পথে হাঁটছেন।’
তিনি আরো বলেছেন,‘আমি এটা বলতে পারি যে, তিনি এই চুক্তি সম্পর্কে তার (নেতানিয়াহু) মৌলিক ধারণাটি ভুল। আমি মনে করি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে ইরানকে বিরত রাখতে এটিই(পরমাণু চুক্তি) হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবস্থা। এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দু দেশের জন্যই উত্তম।’
চুক্তি সম্পর্কে আমেরিকান জনগণকে আশ্বস্ত করে ওবামা সিএএন’য়ের কাছে আরো বলেছেন,‘ চুক্তিতে আমরা সকল বিকল্প সংরক্ষণ করেছি। কাজেই ইরান যদি এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো প্রতারণা করে তাহলে আমরা ওই দেশটির বিরুদ্ধে সেসব বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োগ করব।’
তিনি নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে বলেছেন,‘ইসরায়েলের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আমি এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কখনো যদি ইসরায়েল ইরানের দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে শুধু আমি নই, যে কোনো মার্কিন প্রশাসনই সম্ভাব্য সবকিছু করবে। কেননা ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টিকে আমরা সবসময়ই প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে থাকি।’

