ঢাকাTuesday , 11 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফেরত ১৫৯ জনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

Link Copied!

Human-Traffickingকক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমার থেকে ফেরত আনা ১৫৯ জনকে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দা দপ্তরের লোকজন। পাশাপাশি তাদের দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবাও।
জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যদিয়ে দালালদের তথ্য বের করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কাল বুধরার তাদের বাড়ি পৌঁছানো হবে বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পাচারের শিকার এসব লোকদের কাছ থেকে দালালদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নির্যাতনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দালালদের বিরুদ্ধে ১০ জেলায় পৃথকভাবে মামলা দায়ের করা হবে।
ফেরত আনা ১৫৯ জনের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে ১৬ জন। ওই ১৬ জনকে মঙ্গলবার দুপুরে অথবা কাল সকালে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনা মতে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও আইএমও এর মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। অপর ১৪৩ জনকে একইভাবে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হবে।
ফেরত আনা ১৫৯ জনের মধ্যে ১০ জেলার বাসিন্দা রয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর ৭৮ জন, চট্টগ্রামের ১৮ জন, হবিগঞ্জের ১৭ জন, কিশোরগঞ্জের ১৩ জন, নারায়ণগঞ্জের ১৪ জন, ফরিদপুরের ১২ জন, শরীয়তপুরের ৩ জন, নওগাঁর ২ জন, নাটোরের ১ জন ও বরিশালের ১ জন। এদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৬ জনকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাগরে ভাসমান অবস্থায় মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি ১৫৯ নাগরিককে গত সোমবার দুপুর ১টায় বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। জেলা পুলিশ তাদের নিরাপত্তার সহিত ৬টি বাসে করে বেলা ৩টা নাগাদ কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
এদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-১৭ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মিয়ানমার যান। প্রতিনিধি দলে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এমএম আনিসুর রহমান। অপরদিকে, মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট পরিচালক ইউ স নাইং।
বৈঠক শেষে দুপুর ১টায় ১৫৯ জনকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন প্রতিনিধি দলটি। এ সময় বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এমএম আনিসুর রহমান জানান, বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়ায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের মধ্যে মিয়ানমারের তমব্রু টাউন অ্যাডমিনিস্ট্রিশন অফিসে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠক শেষে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ১৫৯ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে আরো বাংলাদেশি থাকলে এদেরও ফিরিয়ে আনা হবে।
আইএমও কর্মকর্তা আসিফ মুনীর জানান, এর বাইরে মিয়ানমারে আরো সাড়ে ৪শ বাংলাদেশি রয়েছে। তালিকাটি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ চলছে। এদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এসব বাংলাদেশিকে গত ৩০ জুলাই ও ৫ আগস্ট চতুর্থবারের মতো ফেরত আনার কথা ছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কূটনৈতিক কারণে তা দু’বারই স্থগিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া চতুর্থবারের মতো সোমবার ১৫৯ জনকে ফেরত আনা হল।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ২০৮ জন এবং ২৯ মে আরও ৭২৭ জন অভিবাসী প্রত্যাশীদের উদ্ধার করে দেশটির নৌবাহিনী। যার মধ্যে ৮ ও ১৯ জুন এবং ২২ জুলাই তিন দফায় দেশে ফেরত আনা হয় ৩৪৭ জনকে।