নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৯৯ থেকে ২০১৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সারাদেশে অ্যাসিড সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৩ হাজার ৬২৫ জন। এরমধ্যে নারী ১ হাজার ৮৪৭ জন, পুরুষ ৯০১ জন এবং শিশু ৮৭৭ জন।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই তথ্য দিয়েছে অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন (এএসএফ)।
সারাদেশে অ্যাসিড সন্ত্রাস এবং কিশোরগঞ্জের রিপা রানী পণ্ডিতকে অ্যাসিড পানে বাধ্য করার ঘটনার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
এএসএফের তথ্যানুযায়ী চলতি বছরের কেবল জুলাই মাসেই ৮টি অ্যাসিড সন্ত্রাসের ঘটনার শিকার হয়েছেন নয় জন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত ২৬ জুলাই কিশোরগঞ্জে স্বামীর বাড়িতে রিপা রানী পণ্ডিত নামে এক নারী অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হন। স্বামীর ইন্ধনে রিপার শ্বশুর-শাশুড়ি তার মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেন এবং তাকে অ্যাসিড পানে বাধ্য করেন।
অ্যাসিড আক্রান্ত রিপা রাণী পণ্ডিতের সুবিচারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘রিপার মামলার ক্ষেত্রে একজন গ্রেপ্তার হলেও বাকিরা পলাতক রয়েছেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনে নির্ধারিত ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে এই মামলার বিচার সম্পন্ন করতে হবে।’
অভিযুক্ত আসামিরা যেন কোনভাবেই জামিন না পান সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বলেন, ‘উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে সরকার প্রণীত অ্যাসিড সংশ্লিষ্ট আইন, অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ কমিটি থাকা সত্ত্বেও অ্যাসিড সন্ত্রাস বন্ধ কিংবা অ্যাসিডের অনিয়মিত ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে রোধ করা যাচ্ছে না। অ্যাসিড আক্রান্তদের সুবিচার নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, দক্ষ জনবল এবং সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়।’
রিপা রাণীর বর্বর অত্যাচারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দাবি করে রিপার মা দেবী রাণী পণ্ডিত বলেন, ‘যারা আমার মেয়ের উপর নির্যাতন এবং অ্যাসিড পান করতে বাধ্য করেছে তাদের দ্রুত বিচার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- রিপা রণীর ছোট ভাই অপু পণ্ডিত, মামা প্রণব পণ্ডিত, অ্যাসিড সারভাইভার ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মৌসুমি শারমিন, বোর্ড মেম্বার এ কে মাসুদ আহমেদ, ব্র্যাকের শিরিন ফেরদৌস প্রমুখ।

