কক্সবাজার প্রতিনিধি : সাগরে ভাসমান অবস্থায় মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি ১৫৯ নাগরিককে অবশেষে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১টায় বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-১৭ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল রবিউল ইসলাম জানান, ফেরত আনা ১৫৯ জনকে সীমান্তের বাংলাদেশ অভ্যন্তরে এনে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আনা ১৫৯ বাংলাদেশিকে ৬টি বাসে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আইএমও এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে।
বিজিবির এ কর্মকর্তা জানান, দুই দফা পেছানোর পর এদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল সোমবার সকাল ১০টা ৩২ মিনিটের সময় বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়ায় যান। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের মধ্যে মিয়ানমারের তমব্রু টাউন এ্যাডমিনিস্ট্রিশন অফিস এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠক শেষে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ১৫৯ জনকে ফেরত আনা হয়েছে।
ফেরত আনা ১৫৯ জনের মধ্যে ১০ জেলার বাসিন্দা রয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর ৮০ জন, চট্টগ্রামের ১৮ জন, হবিগঞ্জের ১৭ জন, কিশোরগঞ্জের ১৩ জন, নারায়ণগঞ্জের ১২ জন, ফরিদপুরের ১২ জন, শরীয়তপুরের ৩ জন, নওগাঁর ২ জন, নাটোরের ১ জন ও বরিশালের ১ জন। এদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে ১৬ জন।
বাংলাদেশের ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-১৭ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল রবিউল ইসলাম। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন- বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এমএম আনিসুর রহমান, অপারেশন অফিসার মেজর আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি ও একজন চিকিৎসক।
মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট পরিচালক ইউ স নাইং। এছাড়াও ছিলেন মিয়ানমার ১নং বিজিপির কমান্ডিং অফিসার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
উদ্ধার হওয়া এসব বাংলাদেশিকে গত ৩০ জুলাই ও ৫ আগস্ট চতুর্থবারের মতো ফেরত আনার কথা ছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কূটনৈতিক কারণে তা দু’বারই স্থগিত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ২০৮ জন এবং ২৯ মে আরও ৭২৭ জন অভিবাসী প্রত্যাশীদের উদ্ধার করে দেশটির নৌবাহিনী। যার মধ্যে ৮ ও ১৯ জুন এবং ২২ জুলাই তিন দফায় দেশে ফেরত আনা হয় ৩৪৭ জনকে। বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া চতুর্থবারের মতো আজ ১৫৯ জনকে ফেরত আনা হল।


