ঢাকাSunday , 9 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একই চিত্র একই ভাষ্য একই সন্দেহ

Link Copied!

bloggerনিজস্ব প্রতিবেদক : একই চিত্র। একই ভাষ্য। একই ধরন। একই সন্দেহ। এভাবে একে একে খুন হলো ১১ জন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট। প্রত্যেকটি খুনের ধরন একই। প্রতিটি খুনের পর প্রশাসন ও ‘সচেতন’ নাগরিকদের পক্ষ থেকে সন্দেহের তীরও যায় একই গোষ্ঠীর দিকে। প্রতিটি ঘটনার পরই প্রায় একই ধরনের ভাষ্য দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী- ‘খুনিদের ধরার চেষ্টা চলছে, উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত’ কিংবা ‘আনসারউল্লাহ বাংলা টিম এর সঙ্গে সম্পৃক্ত’।
কিন্তু সেইসব ‘অদৃশ্য ঘাতক’রা আর ধরা পড়ে না! বরাবরের মতই তারা হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। আবার হয়তো আরেকটি ঘটনার অপেক্ষা! আবারও সেই চেনা দৃশ্য, চেনা বচন, চেনা সংলাপ!
ব্লগার ও লেখক অনন্ত বিজয় দাসের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতে রাজধানীতে ফের প্রকাশ্য দিবালোকে বাসায় ঢুকে নীলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় ওরফে নীলকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত একে একে একই কায়দায় খুন করা হলো ১১ ব্লগারকে।
২০১৩ সালে খুন হয় ৭ জন, আর চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে খুন হয়েছেন ৪ জন ব্লগার কিংবা অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট অথবা মুক্তচিন্তার লেখক। এছাড়া ২০১৩ সালে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে ৪ জনকে। আর ২০১৫ সালে ১ জনকে।
২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুন হন অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ বিরোধী অ্যাকটিভিস্ট জাফর মুন্সী।
১৫ ফেব্রুয়ারি খুন হন ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন ওরফে থাবা বাবা। মিরপুরে তাকে তার বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
২৮ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় খুন করা হয় ব্লগার মামুন হোসেনকে।
১ মার্চ খুন করা হয় সিলেটে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী জগজিৎ তালুকদারকে।
৯ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নজরুল ইসলাম হলের ভেতর খুন করা হয় আরিফ রায়হান দ্বীপকে।
৩০ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে আমবাগান ফ্ল্যাটে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও মুক্তচিন্তার লেখক আশরাফুল ইসলামকে।
৯ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা সেক্টর কমান্ডারার্স ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক জিয়াউদ্দিন জাকারিয়াকে পেছন দিকে থেকে কুপিয়ে হত্যা হরা হয়।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসি এলাকায় হাজার হাজার মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা হরা হয় বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায়কে।
৩ মার্চ সকালে তেজগাঁয়ে খুন করা হয় ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে।
এর দুই মাস পর ১২ মে সিলেটে ঘাতকদের চাপাতির আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস (৩২)।
সর্বশেষ গত শুক্রবার ৭ আগস্ট নিজ ভাড়া বাসায় কুপিয়ে খুন করা হয় মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে।
এই ১১ জন ছাড়াও আরো ৫ ব্লগারকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণে করা হয়েছিল। কিন্তু বাগ্যক্রমে বেঁচে যান তারা।
২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারিতে উত্তরায় নিজ কার্যারয়ের সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় আসিফ মহিউদ্দিনকে। একই বছরের ৭ মার্চ মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের সামনে কোপানো হয় ব্লগার সানিউর রহমানকে। ২০১৩ সালের জুনে এলিফেন্ট রোডে আক্রমণ করা হয় ব্লগার রাকিব আল মামুনের ওপর। একই বছর বুয়েট ছাত্র ও ব্লগার তন্ময় আহমেদের ওপর আক্রমণ করা হয়।
এছাড়া চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসিতে ব্লগার অভিজিৎ রায়ের ওপর আক্রমণের সময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর আহত হন। এক হাতে সবকটি আঙ্গুল হারালেও প্রাণে বেঁচে যান বন্যা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, জঙ্গিদের ডেথস্কোয়াডের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে ব্লগার ও মুক্তচিন্তার মানুষরা। আঘাতের লক্ষ্যবস্তু শরীরের গলা থেকে মাথা পর্যন্ত। চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নীরবে মৃত্যু নিশ্চিত করছে দুর্বৃত্তরা। তাদের মতে, হত্যাকাণ্ডগুলো একই সূত্রে গাঁথা।
ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে প্রগতিশীল মানুষ ও ব্লগারকে হিটলিস্ট বানিয়ে তালিকা ধরে একের পর এক নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে জঙ্গিদের ডেথস্কোয়াড। তবে এসব খুনের কোনটিই তারা শোরগোল তুলে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ঘটায়নি। প্রায় প্রত্যেকটি ঘটনায়ই তারা ধারালো দেশীয় অস্ত্র (চাপাতি) ব্যবহার করে নীরবে মিশন সম্পন্ন করে চলে যায়। এরপর আর তাদের নাগাল পান না দেশের চৌকস গোয়েন্দারাও!
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে সব ঘটনার ধরন একই, আর কারণগুলোও একই রকম।’
একই রকম ঘটনায় তবুও কেন তদন্তে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরা একটা সিস্টেমে কাজ করে। একদিকে তদন্ত এগোলেই এরা ‘হাইড’ হয়ে যায়। তাই এবার গোয়েন্দা তদন্তে আমরা ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছি। তবে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলা যাবে না।’
এসব খুনের বিষয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘একের পর এক ব্লগার খুনের ঘটনায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুনিদের সম্পর্কে কোনো তথ্য বা ক্লু দিতে পারছে না। এতে হত্যাকারীরা আরো বেশি উৎসাহিত হচ্ছে। এর দায়ভার এখন সরকারকেই নিতে হবে।’
২০১৩ সাল হেফাজতের পক্ষ থেকে ৮৪ জন ব্লগারের তালিকা দেয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ওই তালিকা ও পরবর্তীতে সংযোজিতদের তালিকায় সংযুক্ত করে একে একে ব্লগারদের হত্যা করছে ‘অদৃশ্য’ ঘাতকরা। তবে ব্লগারদের মতে ওই ৮৪ জন ব্লগারদের কেউই ধর্ম অবমাননাকারী নয়। এরা শুধু মুক্ত ও প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী।
এদিকে ব্লগার রাজীব হায়দার খুনের পর তালিকায় থাকা অন্য ব্লগারদের নিরাপত্তা দিতে তাদেরকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার চিন্তা করে সরকার। সেই পরিপ্রেক্ষিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই ৮৪ জনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রতিবেদন দেয় যে, এদের অধিকাংশেরই আগ্নেয়াস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই। আর ২৩ জন ব্লগারের আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় ও সংরক্ষণের বিষয়ে সন্দহ প্রকাশ করা হয়। মূলত এরপর থেকে আর কখনোই ব্লগারদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের চিন্তাভাবনা করা হয়নি।