রাজশাহী প্রতিনিধি : ‘তোমায় মেরে ওরা ভেবেছিলো সব শেষ, কিন্তু ওরা জানে না বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। আমি আর কিছু হবো না মাগো, মানব বিশ্বে মুজিব হবো, মুজিব হলে মানব হবো, মানুষ হলে আমরা সবাই বাঙালি হবো। শোকের আঁধারে দ্বীপ জ্বলে উঠে, পিতা তোমায় ছায়ায়।’ এরকম আরো কতো স্লোগানে সাজানো ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে রাজশাহী মহানগরী।
আগামী ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। শোকের মাসের শুরু থেকেই রাজশাহী মহানগরী যেনো বঙ্গবন্ধুময়। রাস্তার ব্যানার থেকে শুরু করে, অফিসে টাঙানো ব্যানার সব জায়গায় যেনো শোক।
জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। নগর জুড়ে ছড়ে পড়েছে জাতির জনকের ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন রাস্তা, অফিস-আদালত।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে নগরীর প্রধান প্রধান রাস্তাগুলোতে টাঙানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন। একটু পর পর চোখে পড়বে জাতির জনকের ছবি সম্বলিত পোস্টার। নগর জুড়ে এমন ছবিতে যেনো শোকের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজশাহী।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দীন চৌধুরী শোক দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভায় বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সভায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি পালনে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ওইদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধ-নমিত রাখা, সকাল ৯টায় শহীদ মিনার কোর্ট চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সাড়ে ১০টায় শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল ও ১২টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয় ও জেলা শিশু একাডেমিতে শোক দিবসের ওপর কবিতা পাঠ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা এবং মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
বাদ জোহর মহানগরীর সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং সুবিধামত সময়ে অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা করা হবে। সন্ধ্যায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর মোড়ে ও শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে।
রাজশাহী বেতার দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
একই দিবস উপলক্ষে ১৪ আগস্ট রাজশাহী শিশু একাডেমিতে দিবসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কবিতা পাঠ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দীন চৌধুরী শোক জানান, এবার জাতীয় শোক দিবসের দিন বিধি মোতাবেক জাতীয় পতাকা সঠিকভাবে অর্ধনমিত রাখার বিষয়ে তদারকি করবে জেলা প্রশাসন। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের জন্যে সব প্রস্ততি নেয়া হচ্ছে।

