নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে সরকারের সাফল্য থাকলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার বিষয়টি সেই সাফল্যের ঘাটতি বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
বুধবার সকালে ধানমণ্ডির টিআইবি কার্যালয়ে ‘পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, করণীয় ও উত্তরণ শীর্ষক’ একটি গবেষণাপত্রের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এমন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের অন্যান্য সাফল্যে গর্ববোধ করলেও শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন। শিক্ষার ফলাফল তুলনামুলক ভাল হলেও তার গুনগতমান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারটি সরকারের সাফল্যের ঘাটতি বলে আমি মনে করি।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের অন্যতম কারণ হচ্ছে বিভিন্ন ধাপে ধাপে প্রশ্নপত্র বিরতণ করা। টিআইবির এই গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ ধাপে প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্র পর্যন্ত এসে থাকে। এসবের মধ্যে ১৬টি অন্যতম ধাপ উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়।’
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে দুই ধরনের ভাগিদার রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি হচ্ছে সরকার পক্ষের ভাগিদার অপরটি বেসরকারি পক্ষের ভাগিদার। সরকারি পক্ষের যোগসাজস ছাড়া এই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা সম্ভব নয়। সরকারি পক্ষের ভঅগিদারদের মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরী করেন এমন ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন সম্পৃক্ত আছেন। আর বেসরকারি ভাগিদারের মধ্যে আছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, কোচিং সেন্টার ও গাইড প্রকাশনা সংস্থাগুলো।
প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ব্যবসাকে গ্রথ ইণ্ডাষ্ট্রি উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সরকার ও বেসরকারি এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় এসব করে থাকে। তারা একটি প্রশ্নের বদলে দশ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেন এবং সামষ্টিকভাবে দশ থেকে বিশ হাজার পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়। তাই বলা যায় এটি একটি গ্রথ ইন্ডাস্ট্রি।’
প্রশ্নপত্র ফাঁসের এখন পর্যন্ত কোনো আইন নেই বাংলাদেশে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা হলের শৃংঙ্খলা নিয়ে ১৯৮২ সালে একটি আইন থাকলেও ১৯৯০ সালে এসে সেই দশ বছরের সাজা মওকুফ করে মাত্র ৪ বছর করা হয়েছে। যার ফলে এসব প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অপরাধ কমকাণ্ড বেড়েছে চলেছে বলে মনে করেন তিনি। তবে প্রশ্নফাঁস রোধে অবিলম্বে কঠোর আইন করে বন্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি।
টিআইবির এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘শিক্ষাই জাতির ভবিষ্যত এটা সবাই জানে। সে ভবিষ্যতকে নিয়ে চৌর্যবৃত্তি করা সভ্য দেশে কাম্য নয়। বর্তমানে যে শতভাগ ফলাফল দেখছি এ ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্রের প্রণোদনা আছে।’
তিনি বলেন, ‘২০১২-১৩ এবং ১৪ সালে এসব প্রশ্নপত্র ফাঁসের হার বেশি হয়েছে। দায়িত্ব থাকা মন্ত্রী থেকে সংশ্লিষ্টদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করার একটি মানসিকতা তৈরী হয়েছে। হ্যাঁ-না বলেই তারা অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার সুবিধা নিচ্ছেন কিন্তু মন্ত্রীর মতো এসব দায়িত্বপূর্ন পদে থেকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নাই। ’
গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য নিহার রঞ্জন রায় এবং রোমানা সারমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপ- নির্বাহী পরিচালক ড.সুমাইয়া খায়ের ও পরিচালক মোহাম্মদ রফিুকল হাসান প্রমুখ।

