কক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধারের পর বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত আরও ১৫৯ নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বুধবার। গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার চতুর্থ বারের মতো উদ্ধার হওয়া এসব বাংলাদেশিকে ফেরত আনার কথা ছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়।
কক্সবাজারস্থ বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফেরত আসার অপেক্ষায় থাকা ১৫৯ জনের মধ্যে ১০ জেলার বাসিন্দা রয়েছেন। এর মধ্যে নরসিংদীর ৮০ জন, চট্টগ্রামের ১৮ জন, হবিগঞ্জের ১৭ জন, কিশোরগঞ্জের ১৩ জন, নারায়ণগঞ্জের ১২ জন, ফরিদপুরের ১২ জন, শরীয়তপুরের ৩ জন, নওগাঁর ২ জন, নাটোরের ১ জন ও বরিশালের ১ জন। এদের মধ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক রয়েছে ১৬ জন।
কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম জানান, চতুর্থ বারের মত শনাক্ত হওয়া ১৫৯ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হবে ৫ আগস্ট বুধবার। ইতিপূর্বে মিয়ানমার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এদের ফেরত আনার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার এদের ফেরত আনার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়।
তিনি জানান, বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও একজন চিকিৎসকসহ বাংলাদেশ থেকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল বুধবার সকাল ১০ টায় ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে রওনা দেবেন। সীমান্তের ঘুমধুম জিরো পয়েন্টের বিপরীতে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়ায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের মধ্যে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এক পতাকা বৈঠক অনুষ্টিত হবে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ১৫৯ জনকে ফেরত আনা হবে।
পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন, কক্সবাজারস্থ বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম। আর মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন, মিয়ানমার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট পরিচালক চ. নারিং।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা’র (আইওএম) ন্যাশনাল প্রোগাম অফিসার আসিফ মুনীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ১৫৯ জনকে ফেরত আনার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার মিয়ানমার অভ্যন্তরে দু’দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের ফেরত আনা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ২০৮ জন এবং ২৯ মে আরও ৭২৭ জন অভিবাসী প্রত্যাশীদের উদ্ধার করে দেশটির নৌবাহিনী। যার মধ্যে ৮ ও ১৯ জুন এবং ২২ জুলাই তিন দফায় দেশে ফেরত আনা হয় ৩৪৭ জনকে। বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ৪র্থ বারের মতো ১৫৯ জনকে ফেরত আনা হবে।


