অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : নওগাঁর পোরশা উপজেলার সুমিষ্ট আম এই প্রথম বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। রপ্তানি করা আমগুলোর মধ্যে রয়েছে বারী-৩, বারী-৪ ও মল্লিকা। সুস্বাধু হওয়ায় বাজারে এসব আমের ব্যাপক চাহিদা। রপ্তানি করা আমগুলো পোরশা উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের নাজিমুদ্দিন মণ্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলামের বাগানের।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পোরশা উপজেলায় ৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি আবাদী জমিতে আম চাষ হচ্ছে। আর প্রতি হেক্টরে প্রায় ১০ টন করে আমের উৎপাদন হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতিবছর ৬০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিবছর এই উৎপাদন বেড়েই চলেছে। তাই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নওগাঁর পোরশায় আমের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলায় ল্যাংড়া, ফজলী, গোপাল ভোগ, খিরসাপাত, আশ্বিনা, লখনা, আম্রুপালী, বারী-৩, বারী-৪ ও মল্লিকা জাতের আমের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে আম্রুপালী, বারী-৩, বারী-৪ ও মল্লিকা জাতের আমের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দামও অনেক বেশি। স্থানীয় বাজারেই এসব আমের দাম প্রতি মণ ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বাগান মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাগানে এবছর ভালো আম হয়েছে। এবং ভালো ফলন দেখে দেশের রপ্তানিকারক সংস্থা জেএইচ ট্রেডার্স আমার সঙ্গে বিদেশে আম রপ্তানি করবে বলে একটি চুক্তি করে। সে চুক্তির ভিত্তিতেই বাগানের বারী-৩, বারী-৪ ও মল্লিকা জাতের আম যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা হয়েছে।’
আশরাফুল আরো জানান, তিন দফায় তার বাগান থেকে ৫ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করা হয়েছে। গত ৬ জুলাই প্রথম দফায়, ১৩ জুলাই দ্বিতীয় দফায় আর ২৬ জুলাই তৃতীয় দফায় এ আম রপ্তানি করা হয়।
তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে এ উপজেলা থেকে আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ আম বিদেশে রপ্তানি করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

