ঢাকাMonday , 3 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জলের শেকলে বন্দি ৫ লাখ মানুষ

Link Copied!

floodকক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার জেলায় বন্যা কবলিত ৫ লাখেরও বেশি মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। চলতি বর্ষায় প্রবল বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে এক মাসের ব্যবধানে দুইবার বন্যা কবলিত হয়ে দুর্ভোগে জীবনযাপন করছে ৩৫ ইউনিয়নের এসব মানুষ। গত দুই দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যার পানি নেমে গেলেও চরম কষ্টে জীবনযাপন করছে এসব মানুষ।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে, কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ৩৫টি ইউনিয়ন। এতে ৫ লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে অনেকের বসতবাড়ি ও ক্ষেত খামার। পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক উপসড়ক, মৎস্য প্রজেক্টের। অনেকেই সহায়-সম্বল হারিয়ে হয়েছে সর্বশান্ত।
পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে এসব মানুষ ঘরেও ফিরেছে। তবে ধান-চাল, কাপড়, বিছানা ও বাড়ির মেঝে স্যাঁত-স্যাঁতে হওয়ায় রান্নার পাশাপাশি রাত্রী যাপন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষ রয়েছে চরম দুর্ভোগে।
চলতি বর্ষায় ২৫ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত টানা ৫ দিনের প্রবল বর্ষণের সাথে পাহাড়ি ঢলে বন্যা কবলিত হয়েছিল কক্সবাজারের রামু, চকরিয়া, পেকুয়া ও কক্সবাজার সদরসহ বিভিন্ন এলাকা। এতে বন্যায় প্লাবিত হয় ৬ লক্ষাধিক মানুষ।
এক মাসের মধ্যে ২৫ জুলাই থেকে শুরু হয় টানা ভারী বর্ষণ। ২৭ জুলাই থেকে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানি বেড়ে যায়। এতে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও প্লাবিত হয়।
২৯ জুলাই থেকে পানি কমতে শুরু করলেও এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড় কোমেন। ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে ৩০ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণের পাশাপাশি বেড়ে যায় সমুদ্রের জোয়ারের পানি। প্রবল বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয় জেলার ৩৫টি ইউনিয়ন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রচণ্ড বাতাসে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বসতবাড়ি ও গাছপালা। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে হাজার হাজার একর চিংড়ি প্রজেক্টের ক্ষতির পাশাপাশি সড়ক উপসড়ক ভেঙে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ১ আগস্ট থেকে বৃষ্টি কমতে শুরু করায় বন্যার পানি কমতে শুরু করে। রোববার বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা প্লাবিত ৩৫টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার পানি নেমে গেছে।
রামুর ফঁতেখারকূলের দুর্ভোগের শিকার আব্দুল গফুর, আলী, সৈয়দ আলম ও আমির হামজাসহ অনেকে জানান, বন্যার পানিতে তাদের বসতবাড়ি ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়িতে রক্ষিত ধান-চাল, মৌসুমে ফলানোর জন্য সংরক্ষিত বীজ ঢলের পানিতে ভেসে গেছে। পাশাপাশি ভেসে গেছে বাড়ির ব্যবহার্য সব জিনিসপত্র। এখন পানি নেমে গেলেও সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব।
তারা জানান, রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সংযোগ সড়কের হাইটুপির অধিকাংশ অংশই পাহাড়ি ঢলে ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। বর্ষাকালে বেড়িবাঁধের কাজ করা এ সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে ভারী বর্ষণের সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানি সহজেই ভাঙা অংশ দিয়ে ডুকে পড়ায় প্লাবিত হয় হাইটুপি, ভূতপাড়া, পূর্ব মেরংলোয়া, পশ্চিম মেরংলোয়া ও উত্তর মেরংলোয়াসহ আরো কয়েকটি গ্রাম।
রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম জানান, এক মাসের ব্যবধানে রামুর ১১টি ইউনিয়ন দু’বার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। গতবারের বন্যায় ৬ হাজারের বেশি বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবারও ৫ হাজারের বেশি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে কৃষি ও মৎস্য খামারসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমির ক্ষেত ও ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আভ্যন্তরীণ সড়ক ও বেড়িবাঁধ।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলম জানান, ফের বন্যায় চকরিয়ার ১৮টি ইউনিয়ন কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৪টি সম্পূর্ণভাবে এবং ৪টি ইউনিয়ন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় ৭ হাজারের বেশি বসতবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের সড়ক উপসড়ক ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।এছাড়া বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বেশিরভাগ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও এসব মানুষের কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু জানান, বন্যায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছে পেকুয়া উপজেলার লোকজন। বন্যায় পেকুয়া সদর, মগনামা, উজানটিয়া, শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিলীন হওয়ায় পুরো উপজেলা এবারের বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য মাটির তৈরি গুদাম ঘর ও কাঁচা বাড়ি। এবারের বন্যায় পেকুয়ায় ৩ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপকূলীয় ইউনিয়ন মগনামা ও উজানটিয়া, মাতামুহুরী নদী সংলগ্ন শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের অধিকাংশ অংশ ভেঙে বিলীন হওয়ায় এখনো বেশ কয়েকটি এলাকার লোকজন পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। এক মাসের ব্যবধানে পরপর দু’বার বন্যা হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
মহেশখালীর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হোসাইন ইব্রাহিম জানান, মহেশখালীর উপকূলীয় শতাধিক চিংড়ি প্রজেক্টের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধলঘাটা, মাতারবাড়ী, কুতুরজুম ও কালারমারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে জনবসতি জোয়ার ভাটায় পরিণত হয়েছে। এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এক সভার আয়োজন করে। এতে জেলার বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়।
সভায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন জানান, এবারের বন্যায় রামুর ১০টি, চকরিয়ার ৮টি, পেকুয়ার ৬টি, কুতুবদিয়ার ৩টি, কক্সবাজার সদরের ২টি, টেকনাফের ২টি, মহেশখালীর ৩টি, ও উখিয়ার ১টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বন্যার কারণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল ৫ লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা কবলিত এসব মানুষের মাঝে প্রশাসন ৫ শ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৮ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া পানিবন্দি এসব মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। দুর্গত মানুষদের চিকিৎসায় কাজ করছে আশ্রয়কেন্দ্র ভিত্তি গঠন করা মেডিকেল টিম।