ঢাকাMonday , 3 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হেলেদুলে চলছে গাড়ি, শান্তিনগর টু মহাখালী

Link Copied!

flyoverনিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শান্তিনগর থেকে মালিবাগের দুই লেনের সড়কটির প্রশস্ত ১২০ ফুট। কিন্তু বর্তমানে ব্যবহার উপযোগী ২০ ফুটেরও কম। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রচণ্ড জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় সড়কটিতে। এরই মধ্যে ভেঙে ছোটখাট কুয়ায় পরিণত হয়েছে সড়কটির বেশ কয়েকটি অংশ। ফলে এর কোনো অংশই এখন চলাচলের উপযোগী নয়। সড়কটি এখন যেন মরণফাঁদ। রাস্তার বিটুমিন উঠে ছোট-খাটো গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে হেলেদুলে।
সরেজমিন দেখা গেছে, শান্তিনগর-মালিবাগ মোড়ের সড়কের পূর্ব পাশের অংশটিতে বেশ কয়েকটি বড়বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তসহ পুরো সড়কটির তলিয়ে যায়। পানি জমে থাকলে অনেকেই গর্তের গভীরতা বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে হরহামেশাই এসব গর্তে পড়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে গাড়ি চালকদের। যদিও গাড়িগুলো যাতে খাদে না পড়ে সে জন্য বেশ কিছু গর্তে গাছের ডাল কিংবা বাঁশ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।
শান্তিনগরের একটি ওষুধের দোকানের ম্যানেজার মামুন জানান, এ সড়কের গর্তগুলোতে গড়ে প্রতিদিনই পাঁচ-দশটি দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে কম হলেও অর্ধশত গাড়ি গর্তে পড়েছে। গর্তে পড়লে ওই গাড়িকে অন্য গাড়ির সাহায্য নিয়েই উঠাতে হয়।
তিনি আরো জানান, রিকশা-সিএনজিসহ ছোটখাটো গাড়িগুলো গর্তে পড়ে গিয়ে উল্টে যায়। অনেককেই আহত হয়ে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। গর্তে পড়ে পথচারীদরেকে কাদাপানিতে মিশে একাকার হতে হচ্ছে প্রতিদিনই।
শুধু শান্তিনগরের এই সড়কটিই নয়, রাজধানীর মহাখালী, নাবিস্কো, সাতরাস্তা, এফডিসি মোড়, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ ও কাকরাইল সড়কটির অধিকাংশ স্থানেরই একই অবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব রাস্তায় তৈরি হয়েছে ছোটখাটো গর্ত। বর্ষার পানি আর গাড়ির চাকার ঘর্ষণে এসব গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা, তিতাস গ্যাস ও টেলিফোন বিভাগসহ নানা উন্নয়ন সংস্থার অপরিকল্পিতভাবে দফায় দফায় খোঁড়াখুঁড়ির কারণেই এ দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
এ কারণেই সড়কের কোথাও কোথাও কার্পেটিং, বিটুমিন, পাথর ও ইট ওঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বিটুমিনের পরিবর্তে সড়ক মেরামত করা হয়েছে শুধু ইট আর পাথর দিয়ে। ফলে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে আরো বহুগুণ। বৃষ্টির মৌসুম চলায় এসব সড়কের অবস্থা দিন দিন আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলায় এ এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা খুবই বেহাল। নির্মাণসামগ্রী সড়কের ওপর ফেলে রাখায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে যানবাহনগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। বিশেষ করে মগবাজার, ইস্কাটন, এফডিসির সামনের সড়ক, সাত রাস্তার মোড় ও এর আশপাশের রাস্তার অবস্থা খুবই করুণ। রাস্তার বেহাল দশার কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহগুলোকে। রাস্তার ওপর যখন-তখন বিকল হয়ে পড়ছে গাড়ি।
মগবাজার থেকে সাতরাস্তার মোড়ের দিকে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলায় এখানকার রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও গর্তে পানি জমে কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও গাড়ির চাকা ঘুরানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া একটু গতিতে গাড়ি ছাড়লেই রাস্তার ময়লা-কাদাপানি গিয়ে পড়ে পথচারীদের গায়ে।
এদিকে মৌচাক মার্কেটের সামনে থেকে মালিবাগ হয়ে কাকরাইল সড়ক পর্যন্ত সড়কের কোথাও কাদা, কোথাও গর্ত, কোথাও পানি আবার কোথাও বড় বড় কংক্রিটের স্তূপ। এরই মধ্য দিয়ে হেলেদুলে চলছে যানবাহনগুলো।
সড়কটিতে নিয়মিত চলাচলকারী সুপ্রভাত পরিবহনের চালক ইলিয়াছ অনেকটা ক্ষোভের সুরে বলেন, ‘এগুলো নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। কাজের কাজ কিছুই হবে না। সরকারের বহু প্রভাবশালী এমপি-মন্ত্রী এ নিয়ে কথা বলেছেন। পত্রিকা আর টেলিভিশনে বহুবার বক্তব্যও দিয়েছেন। কিন্তু কোনো পরিবর্তন নেই।’
তেজগাঁও, মগবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণ ও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে একদিকে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট অন্যদিকে দুর্বিসহ হয়ে ওঠেছে পথচারীদের দুর্ভোগ। বড়দের পাশাপাশি স্কুলগামী শিশুদেরকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন কষ্ট। স্কুলে যাওয়ার পথে এসব কাদামাটি থেকে সতর্ক থাকলেও অনেক সময় কাদা লেগে পোশাক-পরিচ্ছদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বলাকা পরিবহনের চালক মাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৫ বছর ধরে এই সড়কে গাড়ি চালাই। পুরো সময়টিই দেখে আসছি রাস্তার এমন দশা। খাদে পড়ে গাড়ি নষ্ট হয়ে পড়ে। ক্ষতি হয় আমাদের।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসির) এলাকার রাস্তাগুলোর খোঁড়াখুঁড়ির ব্যাপারে জানতে চাইলে সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর একটি তালিকা তৈরি করতে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি তালিকা পাওয়া গেছে। নতুন অর্থবছর থেকে এগুলো পুনরায় মেরামত করা হবে।’
একই কথা বললেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল আমিন। তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রকৌশলীরা সরেজমিন গিয়ে বেহাল সড়কগুলোর একটি তালিকা করেছেন। সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকাও দিয়েছেন তারা। এছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে ফোন আসছে। কাউন্সিলরাও ব্যক্তিগতভাবে এসে ভাঙা সড়কের তালিকা দিয়ে যাচ্ছেন।’
এ বিষয়ে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘ওয়াসার উধাসিনতার কারণেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা হয়। এই জলাবদ্ধতার কারণে সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করার জন্য তালিকা তৈরি করেছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করা হবে।’
এর আগে একাধিকবার মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ সড়কটি পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সড়ক মেরামতের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। কার্মকর্তারাও সড়ক মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেনে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি বরং থেকেই গেছে দুর্ভোগ।