অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (সিএসআর) গঠন এবং এ খাতের ব্যয়ে অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
শনিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৪ প্রধান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
এসময় অন্যদের মধ্যে ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, নাজনীন সুলতানা, আবু হেনা রাজী হাসান, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী, প্রতিনিধি এবং রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককের সিএসআরের মাধ্যমে বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ফরিদ উদ্দিনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে আতিউর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে দেশেরই উপকার হবে। এককভাবে বা কয়েকটি ব্যাংক মিলে একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গড়ে তুলতে পারে। সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সিএসআর গঠন অনুমতি দেয়া হোক, যেমনটি আগে ছিল।’
তিনি বলেন, ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্টের সহায়তায় আমরা একটি প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছি। যা স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণ দেবে। এ জন্য আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাব পাঠাতে বলেছি। খুব শিগগির এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবো।’
গভর্নর বলেন, ‘বর্তমানে মোবাইলে যে টাকার লেনদেন হচ্ছে তার একটি বড় অংশ রেমিটেন্স।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা নতুন নতুন এসএমই প্রকল্প উদ্ভাবন করুন, যার মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিক সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারে।’ এছাড়া প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুবিধার্থে টাকার বন্ড চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে অনুষ্ঠানে ৩১ জন প্রবাসী ও প্রবাসীদের মালিকানাধীন দুটি এক্সচেঞ্জ হাউজকে রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়ে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কুয়েত প্রবাসী জাকির হোসেন। দ্বিতীয়বারের মতো তিনি এ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন।
জাকির হোসেন ৩৩ বছর ধরে কুয়েত সিটিতে কর্মরত আছেন। দেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিট্যান্স) অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠিয়ে তিনি এবারের অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। গত বছরও তিনি এ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘প্রবাস জীবন আসলে হাজতখানা। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। তার একটি প্রতিদান পেলাম। কুয়েতের দানবীর খালেদ সুবাহির সহায়তায় আমি ৩০০টি মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেছি। ২০০৫ সাল থেকে ভোলা জেলাসহ ১৩ জেলায় প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। তারা দক্ষ হয়ে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠছে।’
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ৩১ জনের মধ্যে ১১ জনের হিসাব জনতা ব্যাংকে, চারজনের হিসাব ইসলামী ব্যাংকের, চারজনের স্ট্যাডর্ড চার্টাড ব্যাংকে, এইচএসবিসি ব্যাংকে চারজনের, দুজনের হিসাব সোনালী ব্যাংকে, দুজন এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে, অপর চারজনের হিসাব অগ্রণী, আলআরাফাহ, দি সিটি ও রূপালী ব্যাংকে। আর অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এক্সচেঞ্জ হাউস দুটি হলো- প্লাক এনকে করপোরেশন এবং ন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ হাউস।

