নিজস্ব প্রতিবেদক : চা শ্রমিকদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার জন্য নাম মাত্র মূল্যে মদ সরবরাহ করা হচ্ছে। যাতে করে তারা ঘোরের মধ্যে থাকেন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হন বা তাদের অধিকার আদায়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে না পারে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চা-জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ করেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে ইন্ডিজোস সোশাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন এবং চা-শ্রমিকরা।
এসময় ড. মিজান রাষ্ট্রকে ঘুমপাড়ানির চরিত্র থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান।
চাঁদপুর চা বাগানের ৫১১ একর জমিতে সরকারের স্পেশাল ইকনোমিক জোন করার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০০ বছরের ব্যবহার ও ভোগ দখলের কারণে চা বাগানের ভূমি শ্রমিকদের অর্জিত অধিকারে পরিণত হয়েছে। এদের কাছ থেকে ভূমি হরণ করায় কোনো বাহাদুরি নাই। যদি পারেন তাহলে ভূমি দস্যুদের কাছ থেকে ভূমি উদ্ধার করুন তাহলেই প্রকাশ পাবে রাষ্ট্রের বাহাদুরি।’
চা শ্রমিকদের ছুটি ভোগকালীন মজুরি না দেয়া প্রসঙ্গে মানবাধিকার চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা প্রচলিত শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর জন্য সরকারকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
এসময় তিনি বলেন, ‘এ মাস শোকের মাস। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু চা শ্রমিকদের জীবন-যাত্রা হচ্ছে এর বিপরীতমুখী। এটা বন্ধ করতে হবে।’
সরকারের তেলে মাথায় তেল দেয়ার বদভ্যাস হয়েছে, তা বন্ধ করতে আগামীকাল হবিগঞ্জ যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুঁজি বা ক্যাপিটালের পূজা নয় জনগণের পূজা করতে হবো। তাদের অধিকারের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে।’
এই স্পেশাল ইকনোমিক জোন বন্ধ করার দাবি জানিয়ে শ্রমিকরা বলেন, ‘চা বাগানের মাটি আমাদের মা, এই ভূমি নিতে হলে আমাদের মেরে এর ভেতরে ঢুকিয়ে দিন। তাহলে আর ভূমির দরকার হবে না।’
চা শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘৪০ বছর ধরে সিলেটের অর্থমন্ত্রী দিয়ে দেশ চলছে । দৈনিক ৬৯ টাকা মজুরি দিয়ে ১ মাসের জন্য যদি অর্থমন্ত্রীকে সেখানে পাঠানো যেত তাহলেই তিনি তাদের জ্বালা বুঝতেন।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশনের মহাসচিব প্রফেসর মেজবা কামাল, সংগঠনের সভাপতি স্বপন সাঁওতাল প্রমুখ।

