লালমনিরহাট প্রতিনিধি : শেষ হয়েছে ছিটমহলবাসীদের ৬৮ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস। শুক্রবার রাত ১২টা ০১ মিনিটে বাংলাদেশ-ভারতের ছিটমহল চলে গেছে ইতিহাসের পাতায়। বর্ণিল আয়োজনে পালিত হয়েছে নাগরিকত্বের বন্দিদশার মুক্তিক্ষণটি। লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন ছিটমহলগুলোতে এখন উড়ছে লাল সবুজের পতাকা।
শনিবার ভোর ৬টায় লালমনিরহাটের ভিতরকুটি ছিটমহলে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ও উত্তর গোতামারী ছিটমহলে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
এ সময় অন্বেষা শিল্পী সংস্কৃতি গোষ্ঠীর বাধ্যযন্ত্রের সহযোগিতায় সদ্য মুক্তি পাওয়া মানুষগুলো জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। একইভাবে লালমনিরহাটে ৫৯টি ছিটমহলেও বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। প্রথম বারের মতো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১১১টি ছিটমহলে সরকারিভাবে উত্তোলন করা হলো জাতীয় পতাকা। জানানো হলো রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা।
এ সময় বাংলাদেশের নাগরিক স্বীকৃতি দিয়ে ছিটবাসীদের মিষ্টিমুখ করে সরকারিভাবে বরণ করে নেয় লালমনিরহাট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লালমনিরহাটের ৫৯টি ছিটমহলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠেন ছিটবাসী। ভিতরকুটি ছিটের কালাম, ১৩৫ ও ১৩৬ নম্বরের মিজানুর রহমান, হেলাল এবং বাশকাটা ছিটের রফিকুলের বাড়ির উঠানে চলছে এসব আনন্দ আয়োজন। ছিটবাসীরা নিজ উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালন করছেন।
মুক্তির এ মহেন্দ্রক্ষণে ছিটবাসীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন নানাভাবে। ছিটবাসীরা জানান, তারা যেন হাপ ছেড়ে উঠলেন। এতোদিন সাপের গর্তে বাস করে আসছিলেন। না ছিল নিরাপত্তা, না ছিল নিশ্চয়তা। দীর্ঘদিন পর হলেও নাগরিকত্ব পাওয়ায় তারা নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন।

