ঢাকাSaturday , 1 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুছে গেল ৬৮ বছরের গ্লানি

Link Copied!

enclave-accomplishedনিজস্ব প্রতিবেদক : ৬৮ বছরের বঞ্চনা আর গ্লানির অবসান। ৩১ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ছিটমহল বিনিময় চুক্তির আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হলো। এই বিশেষ দিনটিকে উদযাপনে জ্বললো ৬৮টি মোমবাতি। উল্লাস উচ্ছ্বাসে কেউ হাসল কেউ কাঁদল। এতোদিন মনেপ্রাণে বাংলাদেশে যুক্ত থাকলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়া মানুষগুলো উদযাপন করলো দিনটি।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কুড়িগ্রামের দাশিয়ার ছড়া ছিটমহলে উৎসবমুখর পরিবেশে এ চুক্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
মোমবাতি জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ মো. জাফর আলী। এসময় কয়েকশ মানুষ ৬৮টি পটকা ফুটিয়ে উল্লাস করেন। মশাল মিছিল করে পুরো ছিটমহল আলোকিত করে তোলেন তারা।
পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মো. গিয়াসউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে আজ ১২টা ১ মিনিট থেকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ছিটমহল। যারা আনন্দ করছে তাদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। তারা এখন বাংলাদেশি।’
শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই ছিটমহলগুলোতে তোরণ, প্যান্ডেল বানিয়ে চলে গান বাজনা। বিভিন্ন বয়সী মানুষেরা বিশেষ করে শিশুরা নতুন পোশাকে এই আনন্দ উদযাপনে অংশ নেয়।
এছাড়া শনিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন শেষে সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে সারাদিন চলবে আনন্দ উৎসব।
ভারত ও বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর আয়তনের ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ড হয়ে গেল। আর ভারতের মধ্যে থাকা ৭ হাজার ১১০ দশমিক ০২ একর আয়তনের বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল যুক্ত হলো ভারতের মানচিত্রে। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে ‘ছিটমহল’ শব্দটি অতীত ইতিহাস হয়ে গেল। ১১১টি ছিটমহলের ৪১ হাজার ৪৪৯ জন মানুষ এখন বাংলাদেশের নাগরিক হলেন।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দেশ ভাগের সময় সিরিল রেডক্লিফ কমিশনের তাড়াহুড়োয় চিহ্নিত করা সীমান্তে ছিটমহল জটিলতার শুরু। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই সমস্যার অবসানে ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়। এরপর তা কার্যকরে প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয় ২০১১ সালে।
গত ৭ মে ভারতের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ওই চুক্তি বাস্তবায়নের পথ তৈরি হলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর হয়। গত বৃহস্পতিবার নতুন মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে দুই দেশ।
ভারতে সবগুলো ছিটমহলের অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায়। আর বাংলাদেশে ছিটমহলগুলো পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায়।
চুক্তি অনুযায়ী উভয়পক্ষের ছিটমহলের বাসিন্দাদের নিজ নিজ নাগরিকত্ব বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। সে হিসাবে বাংলাদেশস্থ ছিটমহল থেকে ৯৭৯ জন বাসিন্দা ভারতীয় নাগরিকত্ব নিতে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে ভারতস্থ ছিটমহলের কেউই বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য নিবন্ধন করেননি।