ঢাকাFriday , 31 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পানিবন্দি জনজীবন, দুর্ভোগ

Link Copied!

Waterচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় কোমেন দুর্বল হয়ে মধ্যরাতে সদ্বীপ চ্যানেল অতিক্রম করে নোয়াখালীর দিকে গিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ফলে সাত নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তিন নম্বর সর্তকতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
তবে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক কেটে গেলেও চট্টগ্রামের জনজীবন এখনো স্বাভাবিক হয়নি। নতুন করে দুর্ভোগে ফেলেছে টানা বৃষ্টিপাত ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের পানির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও নগরীর নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে গেছে। পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম শহররক্ষা বাঁধের একাংশ ভেঙে গেছে। ফলে হুমকিতে পড়েছে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কোমেনের প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ বেড়িবাঁধের প্রায় কয়েকশ’ ফুট বাঁধ ভেঙে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
Jhorএদিকে স্থল নিম্নচাপের কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। জলমগ্ন রাস্তাঘাট, সড়কে খানাখন্দ এবং পরিবহন সঙ্কটের কারণে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
তবে টানা বৃষ্টির কারণে শাকসবজি, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মাছ থেকে শুরু করে প্রতিটি শাকসবজির দাম নেয়া হচ্ছে দ্বিগুন।
কোমনেএদিকে শুক্রবারও চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে যথারীতি মাল উঠানামার কাজ চলেছে। তবে বহির্নোঙরে এখনো পুরোদমে কাজ শুরু হয়নি। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ চলছে স্বাভাবিক নিয়মে।
গতকাল মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় কোমেনে কারণে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের ঘরবাড়ি। মানুষজন হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও বেশ কিছু গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
Ghurni-Jhoorসন্দ্বীপ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সন্দ্বীপের ৬২টি সাইক্লোন শেল্টার ও ১৮০টি বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। এর মধ্যে উড়িরচরে ৪টি শেল্টারে প্রায় ২ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় জরুরিভাবে উপজেলা পরিষদ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নদী-খালের পানি বেড়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ এলাকার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবেছে ঘরবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি ও চিংড়িঘের। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে বানভাসিদের। উপজেলাগুলোতে ভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্থল নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রামে আরো তিন দিন পর্যন্ত এ ধরনেরর টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি ৩ থেকে ৫ ফুট বেশি হবে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৭টায় জোয়ার শুরু হয়েছে। ভাটা শুরু দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে। সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে জোয়ার পুনরায় শুরু হবে।
টানা বর্ষণ ও জোয়ারের উপচে পড়া পানিতে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, আনোয়ারা, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, সীতাকুন্ড ও মিরসরাই উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়ন বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। সাতকানিয়ার শঙ্খ ও ডলু নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে অর্ধশতাধিক বসত ঘর। বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে আরো শতাধিক বসত ঘর। কয়েক লাখ
মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মৎসখামার পানিতে ডুবে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় বানভাসি লোকজন সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।
কোমনে-০২এছাড়া হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার হালদা নদী, সর্ত্তা খাল, ধুরুং খাল, গজারিয়া খাল, বারমাসিয়া খাল, লেলাং খাল ও ফটিকছড়ি খালের পানি উপচে পড়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নগরীর নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তেমন কোন ক্ষতি না হলেও টানা বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেশিরভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শাহ রিয়াজ বলেন, ঘূর্ণিঝড় কোমেন আঘাত আনলে জানমালের নিরাপত্তা ও দুর্যোগ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ ও টাকা প্রস্তুত রয়েছে। বৃষ্টি কমলেই
আমরা কাজ শুরু করবো। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বৃষ্টি থামলে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক দ্রুত মেরামত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।