অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) নির্ধারিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা গতানুগতিক বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা চেম্বার অব কামর্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
এক বিবৃতিতে ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি বলেছে, লক্ষ্যমাত্রা গতানুগতিক এবং তুলনামূলকভাবে কম প্রাক্কলন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে অর্থনীতিতে শিল্পে আশাব্যাঞ্জক বিনিয়োগ হচ্ছে না। সরকার প্রাক্কলিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে ।।
২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে অর্থবছরের শেষে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কম হারে ৩১ দশমিক ১৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জিত হয়েছে।
ইপিবির ২০১৫-১৬ অর্থবছরের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইপিবি, গত অর্থবছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলার ধীরগতি, গ্রীসের অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতির পাশাপাশি ইউরো এবং রুবলের দরপতন, ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী এবং ২০১৫ সালের প্রথমার্ধে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রভৃতি বিষয়গুলো বিবেচনায় এনেছে।
ঢাকা চেম্বার মনে করে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা গতানুগতিক এবং তুলনামূলকভাবে কম প্রাক্কলন করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশী পণ্যের জন্য চিলি, আর্জেন্টিনা, জাপান, থাইল্যান্ড, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ড-প্রভৃতি দেশে শুল্ক ও কোটা মুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা পেয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা, জাপানের বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে রুলস অফ অরিজিনের সহজীকরন এবং অফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে নতুন নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে রপ্তানির এ লক্ষ্যমাত্রা আরোও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংশোধিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায়, এটা ধারণা করা যায় যে, গতবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি উল্লেখ্যযোগ্য হারে বাড়বে। স্বাক্ষরিত চুক্তির আলোকে ভারতের বাজারের বাংলাদেশের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারন করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।
২০১৪-১৫ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত রাশিয়াতে প্রায় ২১৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যদিও বাংলদেশী পণ্য রপ্তানির গন্তব্য স্থান হিসেবে রাশিয়া কোন বড় বাজার নয়। রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কমার ক্ষেত্রে রাশিয়ান রুবল এবং ইউরোর মূল্যমান কমে যাওয়ার বিষয়টি ততটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলার কথা নয়, কারণ আন্তর্জাতিকভাবে পণ্যের মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে রাশিয়ান রুবল তেমন ভূমিকা রাখে না।
ডিসিসিআই বিবৃতিতে বলা আছে, গত অর্থবছরে আমাদের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশ এসেছে তৈরী পোশাক খাত থেকে, যেখানে বিজিএমইএ কর্তৃক প্রস্তাবিত ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিষয়টি ঘোষিত রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রায় প্রতিফলিত হয়নি। ইতোমধ্যে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ হতে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৩০তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিনত করার একটি রূপকল্প প্রকাশ করা হয়েছে।
এ রূপকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে, রপ্তানিমূলক খাতে বিনিয়োগ আকর্ষন করা একান্ত অপরিহার্য। ঢাকা চেম্বার মনে করে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কে ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ হওয়া উচিত। ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কে ডাবল ডিজিটে উন্নীত করতে হলে উৎপাদনশীলখাত, কৃষি ও সেবা প্রভৃতি খাতসমূহের বহুমুখীকরণ একান্ত অপরিহার্য।

