ঢাকাWednesday , 29 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ৩ বিভাগ, গণপদোন্নতি

Link Copied!

bangladesh-bankঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ব্যাংকিং কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে সম্পূর্ণ নতুন তিনটি বিভাগ খুলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কাঠামোগত পরিবর্তন করে নতুন করে নামকরণ করা হয়েছে তিনটি বিভাগের। একইসঙ্গে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ১৮৪ জন বিভিন্ন পদের কর্মকর্তাদের। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
তথ্য মতে, নতুন যে তিনটি বিভাগ গঠন করা হয়েছে সেগুলো হলো- ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ ও এক্সপেনডিচার ম্যানেজম্যান্ট ডিপার্টমেন্ট-২। আর কাঠামোগত কিছুটা পরিবর্তন এনে নতুন নামকরণ করা হয়েছে বিভাগের সেগুলো হলো- ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট ও সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট, এক্সপেনডিচার ম্যানেজম্যান্ট ডিপার্টমেন্ট।
গ্রিন ব্যাংকিং অ্যান্ড সিএসআর ডিপার্টমেন্ট অবলুপ্ত করে নাম দেয়া হয়েছে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট। ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্ট পুনর্গঠন করা হয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট সেল ও স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং ইউনিট থেকে। এক্সপেনডিচার ম্যানেজম্যান্ট ডিপার্টমেন্ট বিলুপ্ত করে নতুন করে এক্সপেনডিচার ম্যানেজম্যান্ট ডিপার্টমেন্ট-১ ও এক্সপেনডিচার ম্যানেজম্যান্ট ডিপার্টমেন্ট-২ তৈরি করা হয়েছে। কৃষিঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগ থেকে আর্থিক সেবাভুক্তি কার্যক্রমকে সরিয়ে ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ গঠন করা হয়েছে। কৃষি ঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের নাম পরিবর্তন করে কৃষিঋণ বিভাগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি অভ্যন্তরীণভাবে ভিন্ন ভিন্ন সার্কুলার প্রদান করে এসব বিভাগ তৈরির কাঠামো ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে পদোন্নতির তালিকায় দেখা গেছে, ১৮৪ জনের মধ্যে ১৫০ জন হলো সাধারণ সাইডে। অন্যান্য বিশেষ সাইডে পদোন্নতি প্রাপ্তের সংখ্যা ৩৪ জন। আর সবগুলো পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ২৩ ও ২৬ জুলাইয়ে জারিকৃত ভিন্ন ভিন্ন সার্কুলারে এসব পদোন্নতির কথা বলা হয়েছে। জেনারেল সাইডের মধ্যে রয়েছে ৩২ জন উপমহাব্যবস্থাপক, ৫ জন মহাব্যবস্থাপক, ২ জন নির্বাহী পরিচালক সহ অন্যান্যদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের কাছে নতুন তিনটি বিভাগ সম্মন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনটি নতুন বিভাগ গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। অনেক বিভাগে অতিরিক্ত যে কাজের চাপ ছিল সেগুলোকে সমন্বয় করেই এটি করা হয়েছে।’ এতে করে কাজের পরিধি বাড়বে বলে জানান তিনি।
তবে গত জুন মাসের শেষের দিকে ব্যাংকটিতে বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে নিয়োগ দেয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ব্যাপক আন্দোলন করেন। তাদের দাবি ছিল মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ে যেন কোন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেয়া হয়। কারণ এর মাধ্য দিয়ে স্বজনপ্রীতি ঘটে ও অযোগ্যতাসম্পন্ন লোকজন এখানে ঢুকে পড়ছে বলে দাবি করেছিল তারা। এর ফলে নিয়মিত কর্মীরা যোগ্যতা অনুসারে তাদের সঠিক পদমর্যাদায় পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিল তারা।
তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ)অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবপ্রসাদ দেবনাথকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়াকে নিয়ে। আন্দোলন জোরদার করেছিল এসব কর্মকর্তারা। যে কারণে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে গভর্নর ভবনের সামনে। এরপরই ২০ জন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়। যখন আন্দোলনকে আরও বড় করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল এসব কর্মকর্তারা। এ সময় গভর্নর তাদের আশ্বস্ত করেন যে তাদের দাবি দাওয়া শোনা হবে। যে কারণে আন্দোলন আর বেশি বাড়েনি।
তাদের শোকজ করা হলেও আন্দোলনে ফুসে ওঠা কর্মকর্তাদের আশ্বাস প্রদান করা হয় তাদের দাবি দাওয়া পূরণের। এরপরই এসব কর্মকর্তারা গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে। যেখানে দাবি-দাওয়া নিয়ে বোঝাপড়া করেছে দুই পক্ষই। যার ফলশ্রুতিতেই এই গণপদোন্নতি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের এভাবে সুবিধা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আর কর্তৃপক্ষকে ছাড় দিয়েছে সুবিধাপ্রাপ্তরা।
কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্দোলন করে এভাবে গণপদোন্নতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ অনেকটাই কমেছে। কারণ তারা একটি বিভাগের বিষয়ে ছাড় দিলেও নতুন পেয়েছে তিনটি বিভাগ। যেখানে নতুন করে প্রয়োজন জনবলের। ফলে কাজের জায়গাটা আরো একটু বড় হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এতে করে যোগ্যরা আর পদোন্নতি বঞ্চিত হবে না বা পদোন্নতির সময়ে জট অনেকটা কমবে বলেই আশা করছেন তারা।
এদিকে আবার এত বড় একটি পদোন্নতিতে বঞ্চিত হয়েছে নারী কর্মকর্তারা। যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে এক চতুর্থাংশও নেই নারী কর্মীদের সংখ্যা।