আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়া ও ইরাকে চরমপন্থি ইসলামিক সংগঠন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তুরস্কে রাজনৈতিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটো। মঙ্গলবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তুরস্কের আহ্বানে ২৮ সদস্যের সংস্থা ন্যাটো বিশেষ বৈঠকে বসে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা অথবা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ন্যাটোর আর্টিকেল চারের আওতায় তুরস্ক এ বৈঠকের আহ্বান করে। সদস্য কোনো একটি দেশের আহ্বানে নিরাপত্তা ইস্যুতে সংস্থার ৬৬ বছরের ইতিহাসে এটি ছিল পাঁচতম বৈঠক।
তুরস্কের দোরগোড়ায় ও ন্যাটো সীমান্তে যে অস্থিরতা চলছে তার জন্য যে বৈঠক ডাকা হয়েছে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলেনবার্গ তাকে সঠিক ও সময়োচিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মিত্র তুরস্কের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।’
গত সপ্তাহে সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বোমা হামলা চালায় ইসলামিক স্টেট। এতে ৩২ ছাত্র নিহত হয়। এ ঘটনার পর সিরিয়ার ভেতরে আইএসের ওপর হামলা চালায় তুরস্ক। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে একটি বাফার জোট গড়তে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে তুরস্ক। এরপরই লড়াই আরও জোরদার করতে ন্যাটোর সঙ্গে বৈঠক আহ্বান করে তুরস্ক।
বৈঠকে সিরিয়া ও ইরাকে আইএস লক্ষ্যবস্তুতে স্থল ও আকাশ পথে হামলার জন্য সামরিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে তুরস্ক ও ন্যাটো আলোচনা করেছে। তবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান কেবল সামরিক সহায়তাই বরং ন্যাটোর কাছ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা চাইছেন।
মঙ্গলবার চীন সফর শুরু করার আগে রাজধানী আঙ্কারায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ন্যাটো সদস্যভুক্ত কোন দেশ হামলার শিকার হলে ন্যাটো তাকে সবভাবে সহযোগিতা করবে। এই মুহূর্তে তুরস্ক হামলার শিকার হয়েছে এবং সে নিজেকে রক্ষার অধিকার চেষ্টা করছে। এই চেষ্টা তার দেশ শেষ পর্যন্ত করে যাবে…তবে আমরা যা বলতে চাচ্ছি তা হচেছ ন্যাটোরও দায়-দায়িত্ব রয়েছে। আমরা ন্যাটোকে তার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বলেছি।’

