অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ‘সাগর নদী সকল জলে, মাছ চাষে সোনা ফলে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে দেশব্যাপী জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৫। মৎস সপ্তাহ চলবে আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত। মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে আরো মজবুত ও স্বনির্ভর করা লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে মৎস্যঅধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক।
তিনি বলেন, ‘২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪৮ লাখ মেট্রিক টন। এছাড়া রপ্তানি আয়ের ২ দশমিক ০৬ শতাংশ মৎস্য খাতের অবদান রাখছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে বঙ্গোপোসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার জলসীমায় বাংলাদেশের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার ফলে নতুন নতুন মৎস্য আহরণক্ষেত্র চিহ্নিত করে তলদেশীয় ভাসমান মৎস্য আহরণের এক নব দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।’
ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪-১৫ অর্থবছরে জাটকা আহরণে বিরত জেলেদের দৈনন্দিন খাদ্যে চাহিদা মেটানোর জন্য জাটকা সমৃদ্ধ ১৫ জেলার ৮০টি উপজেলায় ২ লাখ ২৪ হাজার ১০২ জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ভিজিএফের আওতায় মোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩২ মেট্রিকটন চাল প্রদান করা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাক সত্ত্বেও বর্তমান সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ফলে ২০১৪-১৫ অর্থিক বছরে ৮৩ হাজার ৫২৪ মেট্রিকটন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।’
বিপন্নপ্রায় মৎস্য প্রজাতির সংরক্ষণ, প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের নদ-নদী ও জলাশয়ে প্রায় ৭৮৯টি অভয়াশ্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আর এ সরকারের বিগত ছয় বছরে রেকর্ডসংখ্যক ৭৭৩টি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়।’
বিগত ৬ বছরে দেশব্যাপী বিভিন্ন জলাশয়ে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন গুণগত মানসম্পন্ন দেশীয় প্রজাতি ও বিপন্নপ্রায় প্রজাতির পোনা অবমুক্ত করার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এ পোনামাছ অবমুক্তি কার্যক্রমের ফলে বার্ষিক প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছের পুনরাবির্ভাব ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনের আগে মন্ত্রী বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন। র্যালিটি রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেলীনা আফরোজ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহের উপস্থিত ছিলেন।

